শাহ মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ ও খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য।
Table of Contents
শাহ মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

জন্ম ও প্রাথমিক জীবন
শাহ মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার আমাদি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মৃত মকবুল হোসেন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন।
রাজনৈতিক ও কর্মজীবন
শাহ মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদের সদস্য। তিনি ১৯৬৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নকালে সমগ্র পাকিস্তান ইসলামী ছাত্রসংঘের (বর্তমান ইসলামী ছাত্র শিবির) সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি ১৯৬৮ সালে বাগেরহাটের রামপাল মহাবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ পদে যোগদিয়ে ১৯৭৯ পর্যন্ত তিনি শিক্ষকতার পেশায় ছিলেন।
তিনি ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসন থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নে প্রথমবার সাংসদ নির্বাচিত হন। এর পর ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসন থেকে জামায়াতের মনোনয়নে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। জুন ১৯৯৬ সালের সপ্তম ও ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন তিনি।

বিতর্ক
শাহ মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস মুক্তিযুদ্ধকালে কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন। তিনি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি বাগেরহাটে নারী ধর্ষন ও লুটতরাজের সহ মুক্তিযুদ্ধবিরোধী কর্মকাণ্ড করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, যার পূর্বনাম ছিলো জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ বাংলাদেশের একটি ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল। বাংলাদেশে ইসলামী শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন এই দলের উদ্দেশ্য। দলটি ইকামতে দ্বীন (ধর্ম প্রতিষ্ঠা) নামক মতাদর্শকে মূলভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করে এবং একে “রাষ্ট্রক্ষমতা লাভের মাধ্যমে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা” অর্থে দলীয় ও রাজনৈতিকভাবে ব্যাখ্যা করে থাকে। এটি পাকিস্তানের জামায়াতে ইসলামীর একটি শাখা এবং তা মিশরের মুসলিম ব্রাদারহুড-এর আদর্শ ধারণ করে।
২০১৩ সালের ১ আগস্ট বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট জামায়াতের নিবন্ধন সম্পর্কিত একটি রুলের রায়ে এই সংগঠনের নিবন্ধন অবৈধ এবং একে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক আলোচনা ও সংবাদমাধ্যমের পরিমণ্ডলে আলোচ্য সংগঠনটিকে ‘জামায়াত’ বলেও উল্লেখ করা হয়। জামায়াতে ইসলামী ও এর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবির (পূর্বেকার নাম: ইসলামী ছাত্র সংঘ)-এর একটিকে বোঝাতে ‘জামায়াত-শিবির’ শব্দদ্বয় ব্যবহৃত হয়।

জামায়াতে ইসলামীর কর্মী, ইসলামী ছাত্র শিবিরের কর্মী, এই দুই সংগঠনের অঙ্গ ও সমমনা সংগঠনসমূহের কর্মী, এদের সবকয়টির সমর্থকগোষ্ঠী – এদের সবাইকে বোঝাতে ‘জামায়াতি’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
জামায়াত ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার এবং পাকিস্তান বিভক্তির বিরোধিতা করেছিল। প্রায়শই জামায়াত মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতার পিছনে ইসলামী আন্দোলনের স্বার্থকে সামনে আনে। দলটি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে বাঙালি জাতীয়তাবাদী, বুদ্ধিজীবী এবং সংখ্যালঘু হিন্দুদের হত্যায় সহযোগিতা করেছিল।
দলটির অনেক নেতাকর্মী সেসময় গঠিত আধা-সামরিক বাহিনীতে যোগদান করেছিল, যারা গণহত্যা, বিশেষ করে হিন্দুদের ধর্ষণ এবং জোরপূর্বক ইসলাম ধর্মে স্থানান্তরের মত যুদ্ধাপরাধে জড়িত থাকায় অভিযুক্ত। জামায়াতে ইসলামীর সদস্যরা আধাসামরিক বাহিনী শান্তি কমিটি, রাজাকার ও আলবদর গঠনে নেতৃত্ব দিয়েছিল।
আরও দেখুনঃ