শাহে আলম তালুকদার হলেন বাংলাদেশের একজন রাজনীতিবিদ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ কমিটির সহ-সম্পাদক এবং বর্তমান সংসদ -সদস্য। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রাক্তন কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন। তিনি । একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বরিশাল-২ আসন থেকে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
Table of Contents
শাহে আলম । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

রাজনৈতিক জীবন
স্কুল জীবনে ছাত্রলীগের মাধ্যমে রাজনীতিতে পদার্পণ ঘটে তার। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়াকালীনও তিনি বরিশাল অঞ্চলে দলের হাল ধরতে এবং প্রতিবাদে জানাতে সোচ্চার ছিলেন।
বরিশাল ব্রজমোহন কলেজের ছাত্র শাহে আলম পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং এরমধ্য দিয়ে তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে তার প্রবেশ ঘটে। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, পাঠাগার সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক, সহ-সভাপতি ও সর্বশেষ সভাপতির আসনে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৮১ সাল থেকে ৯০ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগকে সুগঠিত রাখায় শেখ হাসিনা ১৯৯০ সালে ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগের তৎকালীণ সভাপতি ও সম্পাদকের পরিবর্তে সহ সভাপতি শাহে আলমকে ভিপি প্রার্থী করেন। সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে তাকে ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি।
১৯৯১, ৯৬, ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৪ এর নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হলেও পাননি। অবশেষে ২০১৮-এর নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন লাভ করেন এবং সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ বাংলাদেশের একটি প্রধান রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন। এটি ভারত বিভক্তিক্রমে পূর্ব বাংলার উদ্ভবের কিছু পর গঠিত হয়। এটি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন হিসেবে স্বীকৃত।
ইতিহাস
১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলের অ্যাসেম্বলি হলে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে এর নাম ছিল পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন অধিকার সংক্রান্ত আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন, শিক্ষার অধিকার, বাঙালির স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা, গণঅভ্যুত্থান, স্বাধীনতা ও স্বাধিকার আন্দোলন।
প্রতিষ্ঠাকালীন আহ্বায়কের ভূমিকা পালন করেন নাঈমউদ্দিন আহমেদ এবং পরবর্তীতে সাংগঠনিকভাবে এর সভাপতি মনোনীত হন দবিরুল ইসলাম। ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন খালেক নেওয়াজ খান।

১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠার পর সর্বপ্রথম মাতৃভাষা বাংলার জন্য সংগ্রাম করেছিল। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ভূমিকা ছিল।
১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে সর্বকনিষ্ঠ মন্ত্রী ছিলেন, যাতে ছাত্রলীগ বঙ্গবন্ধুর ভ্যানগার্ড ছিল। ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের অগ্রণী ভূমিকা ছিল।
শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালের ৬ দফা দাবি দিয়েছিলেন, যা ছিল বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার আন্দোলন বেগমান হয়। তৎকালীন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুকে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিল।
আরও দেখুনঃ