রাজধানীর শাহবাগে সংবাদ সংগ্রহের সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের ওপর পুলিশের বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সংবাদকর্মীরা। আজ শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধনে সাংবাদিকেরা এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (এমআরএ) এবং ঢাকায় কর্মরত সাধারণ সাংবাদিকদের ব্যানারে আয়োজিত এই মানববন্ধন থেকে দোষী পুলিশ সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় পুলিশের সকল সংবাদ ও আয়োজন বয়কটের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।
Table of Contents
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও আহতের বিবরণ
গতকাল শুক্রবার বিকেলে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ নামক একটি সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালীন পুলিশ যখন আক্রমণাত্মক ভূমিকা নেয়, তখন অনেক সংবাদকর্মী সরাসরি সম্প্রচার বা লাইভে ছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, পুলিশ সুপরিকল্পিতভাবে তথ্য গোপন করার উদ্দেশ্যে সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
নিচে শাহবাগের ঘটনায় সাংবাদিক নিগ্রহের একটি সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান দেওয়া হলো:
| হামলার ধরন | ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ |
| মোট আহত সাংবাদিক | ২০ জনের বেশি (এমআরএ-র তথ্যমতে) |
| আক্রান্ত সংবাদমাধ্যম | যমুনা টেলিভিশন, দৈনিক যুগান্তর, বাংলাভিশনসহ আরও অনেক |
| আঘাতের ধরন | লাঠিচার্জ, লাথি এবং পেশাগত সরঞ্জামে আঘাত |
| ক্ষয়ক্ষতি | মোবাইল ফোন ভাঙচুর এবং ডিজিটাল ডিভাইসের ক্ষতি |
প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত সাংবাদিকদের বক্তব্য
সংঘর্ষের সময় পুলিশের নিষ্ঠুরতার শিকার হন দৈনিক যুগান্তরের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার আবু সালেহ মূসা। তিনি জানান, পুলিশ যখন সাধারণ পথচারীদের নির্বিচারে পেটাচ্ছিল, তখন তিনি ফেসবুক লাইভে ছিলেন। কোনো উসকানি ছাড়াই এক পুলিশ সদস্য তাঁর হাতে লাঠি দিয়ে আঘাত করলে ফোনটি পড়ে যায়। তিনি ফোনটি কুড়িয়ে নিতে গেলে চার-পাঁচজন পুলিশ সদস্য একসাথে তাঁর ওপর হামলে পড়ে এবং পিঠে আঘাত করে।
মানববন্ধনে উপস্থিত এটিএন বাংলার বিশেষ প্রতিবেদক আলী আজগর পুলিশের এই আচরণকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের পরিপন্থী উল্লেখ করে বলেন, “পৃথিবীর কোথাও পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের এভাবে প্রকাশ্যে ও অহেতুক মারধর করা হয় না। পুলিশের এমন আক্রমণাত্মক আচরণ দেখে মনে হয়েছে, তাঁরা বিশেষ কিছু গোপন করতে চেয়েছিলেন।”
প্রশাসন ও সরকারের প্রতি ক্ষোভ
মানববন্ধনে বাংলাভিশনের বিশেষ প্রতিবেদক কেফায়েত শাকিল অত্যন্ত কড়া ভাষায় এই ঘটনার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “সাংবাদিককে ল্যাং মেরে ফেলে দেওয়া মানে কেবল একজন ব্যক্তিকে অপমান করা নয়; এটি তথ্য উপদেষ্টা, পুলিশ প্রধান এবং রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ গণমাধ্যমকেই ল্যাং মারার শামিল।” তিনি বর্তমান সরকারের তথ্য উপদেষ্টার নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, দেশের একজন প্রথিতযশা নাগরিক অধিকারকর্মী হওয়া সত্ত্বেও ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।
আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি
সাংবাদিক নেতারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁরা কেবল আশ্বাসে সীমাবদ্ধ থাকতে চান না। শাহবাগের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ দেখে যে সকল পুলিশ সদস্য সাংবাদিকদের ওপর হামলা করেছে, তাঁদের অবিলম্বে বরখাস্ত ও বিভাগীয় বিচারের আওতায় আনতে হবে। যদি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনগুলো বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেবে।
