দেশের আকাশপথের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন এবং বৈশ্বিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নবনির্মিত থার্ড টার্মিনাল দ্রুততম সময়ের মধ্যে চালু করার জন্য বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই নির্দেশ দেন। বৈঠক শেষে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রধানমন্ত্রীর এই নতুন নির্দেশনার কথা জানান।
Table of Contents
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও বর্তমান প্রেক্ষাপট
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পটিকে বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। পর্যটন মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের অর্থনীতি ও পর্যটন খাতের প্রসারের স্বার্থে এই টার্মিনালটি দ্রুত কার্যকর করার ওপর জোর দিয়েছেন। প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকা সত্ত্বেও কেন দীর্ঘ সময় এটি অব্যবহৃত রয়েছে, সে বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।
টার্মিনালটি কবে নাগাদ যাত্রী সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন:
“একটি সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনই বলা সম্ভব নয়। তবে আমাদের লক্ষ্য হলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে এটি চালু করা। বর্তমানে কারিগরি বিষয়গুলোর চুলচেরা বিশ্লেষণ, নিরাপত্তা তদন্ত এবং প্রশাসনিক সমন্বয় নিয়ে কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রী সরাসরি এই বিষয়টি তদারকি করছেন।”
পূর্ববর্তী বিলম্ব ও সরকারের অবস্থান
প্রকল্পের ৯৯ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরও উদ্বোধনে বিলম্ব নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। এ বিষয়ে বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়বদ্ধতা নিয়ে ইঙ্গিত দিয়ে মন্ত্রী বলেন, “কেন এতদিন এটি চালু হয়নি, সেই প্রশ্ন আগের প্রশাসনের কাছে রাখা যেত। তবে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রধান লক্ষ্য হলো প্রকল্পের বাকি কাজ শেষ করে জনস্বার্থে এটি উন্মুক্ত করা।”
| প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ দিকসমূহ | বিস্তারিত তথ্য |
| প্রকল্পের নাম | হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থার্ড টার্মিনাল |
| কাজের বর্তমান অগ্রগতি | ৯৯ শতাংশের বেশি সম্পন্ন |
| প্রধান তদারকি কর্তৃপক্ষ | বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) |
| টার্মিনালের বার্ষিক সক্ষমতা | প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ অতিরিক্ত যাত্রী |
| বর্তমান স্থিতি | কারিগরি ও প্রশাসনিক তদন্ত চলছে |
উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের উপস্থিতি
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে দেশের শীর্ষস্থানীয় নীতি-নির্ধারক ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম
মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক
থার্ড টার্মিনালের অর্থনৈতিক গুরুত্ব
এই টার্মিনালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে শাহজালাল বিমানবন্দরের যাত্রী হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণ হবে। এতে মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্ট সিস্টেমের সমন্বয় থাকবে, যা আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য ভ্রমণ সহজতর করবে। এছাড়া দেশের রপ্তানি বাণিজ্যে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের ক্ষেত্রেও এই টার্মিনাল বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন যে, নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক মানের সাথে কোনো আপস না করেই যেন টার্মিনালটি পরিচালনার জন্য প্রস্তুত করা হয়। সরকারের এই উদ্যোগ দেশের এভিয়েশন সেক্টরে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
