শহীদ হাদি হত্যার বিচার দাবিতে লক্ষ্মীপুরে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ

লক্ষ্মীপুর জেলা শহরে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার বেলা একটার দিকে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক এই কর্মসূচি ঝুমুর বিজয় চত্বর এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভের কারণে ঝুমুর বিজয় চত্বরসহ শহরের প্রধান সড়কগুলোতে যান চলাচল কয়েক ঘন্টা ব্যাহত হয়। পরে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বিক্ষোভকারীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও হাতে লেখা প্ল্যাকার্ডসহ অবস্থান নেন। তাদের প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল:

  • “মার্চ ফর ইনসাফ”

  • “হাদির হত্যার বিচার চাই”

  • “খুনিদের রক্ষা নয়, বিচার চাই”

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, শহীদ হাদি হত্যার ঘটনার দীর্ঘ সময় পার হলেও তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। প্রকৃত অপরাধীদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা রয়েছে। তারা সতর্ক করেছেন, দ্রুত বিচার না হলে দেশের স্থিতিশীলতা ক্ষুণ্ণ হতে পারে এবং সমাজে আরও বড় অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে।

কর্মসূচিতে উপস্থিত শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম বলেন, “প্রশাসন যদি শুরু থেকেই আন্তরিক হতো, তাহলে আমাদের রাস্তায় নামতে হতো না। আমরা বিচার চাই, আশ্বাস নয়।” আরেক শিক্ষার্থী ফিরোজ আলম বলেন, “একজন মানুষ প্রকাশ্যে খুন হলো, অথচ কোনো অগ্রগতি নেই। এই নীরবতা আমাদের নিরাপত্তা ও বিচার ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।”

ওসমান হাদি ঢাকা–৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে চেয়েছিলেন। গণসংযোগের সময় তিনি জনসাধারণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে আসছিলেন। ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর ঢাকার পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেল থেকে তাঁর মাথায় গুলি চালায়। তিনি তখন রিকশায় ছিলেন। প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।

ঘটনাটি দেশের বিভিন্ন স্তরে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। সরকারের পক্ষ থেকেও সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের আশ্বাস দেওয়া হয়। ইনকিলাব মঞ্চ শহীদ হাদির হত্যার বিচারের দাবিতে ধারাবাহিকভাবে কর্মসূচি পালন করে আসছে।

ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড সংক্ষেপে :

বিষয়তথ্য
পূর্ণ নামশহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি
নির্বাচনি এলাকাঢাকা–৮
হত্যাকাণ্ডের তারিখ১২ ডিসেম্বর
হত্যাস্থলপুরানা পল্টনের কালভার্ট রোড, ঢাকা
আহত হওয়ার পর হাসপাতালেঢাকা মেডিকেল কলেজ, এভারকেয়ার হাসপাতাল
মৃত্যুর তারিখ১৮ ডিসেম্বর, সিঙ্গাপুর
হত্যাকারীমোটরসাইকেলধারী দুর্বৃত্তরা (পরিচয় অজ্ঞাত)
আন্দোলনের ধরনবিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ, প্ল্যাকার্ড, ব্যানার
আন্দোলনকারীদের দাবিহত্যার দায়ীদের দ্রুত বিচার, নিরাপত্তা নিশ্চয়তা

বিক্ষোভটি প্রমাণ করে যে, শহীদ হাদির হত্যার বিচার ও ন্যায়বিচারের দাবি সমাজের বিভিন্ন স্তরে এখনও শক্তভাবে বিরাজমান। অনেকে মনে করছেন, সরকারি তৎপরতা ব্যর্থ হলে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতায় দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়তে পারে।