শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের জীবনগাথা: বাকী ও বাবুলের অবিস্মরণীয় আত্মত্যাগ

মুক্তিযুদ্ধের সেই সংকটময় দিনগুলোতে, এক তরুণ দেশের স্বাধীনতার তরে তার জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তিনি লিখেছিলেন—
“দেশের সংকটময় মুহূর্তে আমি ঘরে বসে থাকতে পারি না। মা, তুমি কেঁদো না—এটি দেশের জন্য আমার ন্যূনতম চেষ্টা।”
এই সাহসী তরুণ ছিলেন শহীদ আব্দুল্লাহিল বাকী, যিনি বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত হয়েছেন। আজ তাঁর এবং তাঁর সহযোদ্ধা শহীদ বাবুলের ৫৫তম শাহাদাতবার্ষিকী পালন করা হচ্ছে।

স্বাধীনতার মাত্র ১২ দিন আগে, ৪ ডিসেম্বর ১৯৭১, পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকাররা তাঁদের জীবন নিঃশব্দে ছিনিয়ে নিয়েছিল। স্বপ্ন গড়ার বয়সে তাঁরা দেশের মুক্তির জন্য নিজ প্রাণ উৎসর্গ করেছিলেন।

আব্দুল্লাহিল বাকী তখন মাত্র ২১ বছর বয়সী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র। অসহযোগ আন্দোলন ও মার্চের প্রতিরোধের সময় তিনি ছিলেন অকুতোভয়। ৮ মার্চ গভর্নর হাউসে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পাকিস্তানি শাসনব্যবস্থায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিলেন।

১৮ এপ্রিল ১৯৭১ তারিখে তিনি মা-বাবার উদ্দেশে লিখেছিলেন—
“মা, দেশের জন্য আমি ঘরে বসে থাকতে পারি না… তুমি কেঁদো না… দেশের জন্য এটি ন্যূনতম চেষ্টা। দেশ স্বাধীন হোক—এই দোয়া করো মা।”
এই চিঠি বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে, যা এক তরুণের দেশপ্রেমের চিরমূল্য দলিল হিসেবে গণ্য হয়।

ভারতে প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর দেশে ফিরে তিনি গেরিলা অভিযান পরিচালনা করেন। মতিঝিলে একযোগে চারটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পাকিস্তানি সেনাদের আতঙ্কিত করেছিলেন। পরে আরও উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য আবার দেশে ফিরে ইউনিট কমান্ডার হিসেবে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় গোপন যুদ্ধ পরিচালনা করেন।

নভেম্বরের শেষ দিকে তিনি ঢাকার উপকণ্ঠে অবস্থান করছিলেন। ৪ ডিসেম্বর রাতে খিলগাঁওয়ে মাকে দেখতে আসার পথে পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকারদের হাতে ধরা পড়েন। নির্মম নির্যাতনের পর হাত-পা বেঁধে হত্যা করা হয় বাকী ও বাবুলকে, মাত্র কয়েক পা দূরে ছিল তাঁর নিজ ঘর।

১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর, দেশের প্রতি অসামান্য সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে আব্দুল্লাহিল বাকীকে মরণোত্তর বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত করা হয়।

নিচের টেবিলে শহীদ আব্দুল্লাহিল বাকী ও বাবুলের সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত তুলে ধরা হলো—

বিবরণআব্দুল্লাহিল বাকীবাবুল
জন্মঅজানাঅজানা
বয়স২১ বছর (১৯৭১)অজানা
শিক্ষাঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাষ্ট্রবিজ্ঞানঅজানা
মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকাগেরিলা কমান্ডার, বোমা বিস্ফোরণ, গোপন অভিযানসহযোদ্ধা গেরিলা
শাহাদাত৪ ডিসেম্বর ১৯৭১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১
পুরস্কারবীর প্রতীক (মরণোত্তর)অজানা

শহীদদের আত্মত্যাগ আজও আমাদের স্বাধীনতা ও অসীম সাহসিকতার প্রতীক হিসেবে স্মরণীয়। তাদের ত্যাগবীর্য আমাদের ইতিহাসে চিরস্থায়ীভাবে অমর।