শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের স্মৃতিতে

শ্রদ্ধায় স্মরণ করি অমর সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র

আজ ১৬ জানুয়ারি, বাংলা সাহিত্যের অমর কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রয়াণ দিবস। তিনি শুধু তাঁর সময়ের নয়, বরং চিরকালীন পাঠকপ্রিয়তার প্রতীক। মানব জীবনের সুখ–দুঃখ, প্রেম–বিরহ, সামাজিক বৈষম্য এবং নৈতিক দ্বন্দ্বের চিত্রায়ন তাঁর রচনায় এমনভাবে ফুটে উঠেছে, যা আজও পাঠকের হৃদয়ে গভীর অনুরণন সৃষ্টি করে।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর, হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে। কৈশোর এবং কৈশোরের প্রথম অংশ তিনি কাটিয়েছেন ভাগলপুরে, যা তাঁর সাহিত্যসাধনার মূল ভিত্তি স্থাপন করে। এই সময়েই তাঁর মানুষের প্রতি সহানুভূতি ও সমাজবোধের বীজ রোপিত হয়।

তিনি প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন দেবানন্দপুর হুগলি ব্রাঞ্চ স্কুল এবং ভাগলপুর দুর্গাচরণ এম.ই. স্কুল-এ। পরবর্তীতে টি.এন. জুবিলি কলেজিয়েট স্কুল থেকে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে এফ.এ. শ্রেণিতে ভর্তি হন। দারিদ্র্য ও পারিবারিক সংকটের কারণে শিক্ষাজীবন অসমাপ্ত থাকলেও, সাহিত্যচর্চায় তা কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।

শরৎচন্দ্রের কর্মজীবনও সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে। তিনি বনেলি স্টেটে সেটেলমেন্ট অফিসারের সহকারী, কলকাতা হাইকোর্টে অনুবাদক, এবং বার্মা রেলের হিসাব দপ্তরে কেরানি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই অভিজ্ঞতাগুলো তাঁর রচনায় বাস্তবতা ও গভীরতা যোগ করেছে।

শরৎচন্দ্রের সাহিত্যকর্মের সংক্ষিপ্ত তালিকা:

উপন্যাস/গল্পপ্রকাশের মাধ্যমে খ্যাতিবিশেষ উল্লেখ
বড়দিদিভারতী পত্রিকাপ্রথম উপন্যাস, সাহিত্যাঙ্গনে আলোড়ন
দেবদাসপাঠকপ্রিয়প্রেমের ক্লাসিক ও সিনেমায় রূপান্তরিত
শ্রীকান্তপাঠকপ্রিয়সামাজিক এবং নৈতিক দ্বন্দ্বের চিত্রায়ন
গৃহদাহসাহিত্যকর্মসমাজের কুসংস্কার ও দ্বন্দ্বের আলোচনায় বিশেষ
পথের দাবীসমালোচক প্রশংসিতব্রিটিশ শাসনের বিপ্লবী চেতনার জন্য বাজেয়াপ্ত

তার সাহিত্যকর্মের মধ্যে বিন্দুর ছেলে, পরিণীতা, বৈকুণ্ঠের উইল, চরিত্রহীন, নিষ্কৃতি, দেনা-পাওনা, শেষ প্রশ্ন উল্লেখযোগ্য। এছাড়া প্রবন্ধগ্রন্থ ‘নারীর মূল্য’‘স্বদেশ ও সাহিত্য’ তাঁর চিন্তাশীল সাহিত্যবোধের সাক্ষ্য বহন করে।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের চিত্রকলারও স্বতন্ত্র অবস্থান রয়েছে। তাঁর আঁকা ‘মহাশ্বেতা’ অয়েল পেইন্টিং বিখ্যাত শিল্পকর্ম হিসেবে খ্যাত। বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পেয়েছেন কুন্তলীন পুরস্কার, জগত্তারিণী স্বর্ণপদক, এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিলিট উপাধি

১৯৩৮ সালের ১৬ জানুয়ারি, কলকাতার পার্ক নার্সিং হোমে এই মহান সাহিত্যিকের জীবনাবসান ঘটে। আজ তাঁর প্রয়াণ দিবসে আমরা স্মরণ করি, শ্রদ্ধা জানাই, এবং পাঠকের হৃদয়ে চিরকাল অমর রাখি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।