শরীরের গন্ধ চিনে কামড়ায় মশা, বলছে গবেষণা

শরীরের গন্ধ চিনে কামড়ায় মশা, বলছে গবেষণা । মশা কাকে কামড়াবে তা নির্ভর করে ওই মানুষের শরীরের গন্ধের ওপর বলছেন, একদল বিজ্ঞানি। মশা সম্পর্কে আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো- ৬৬ ফুট দূরে থেকেও মানুষের গন্ধ পায় মশা!গবেষণাটি করেছেন জনস হপকিনস ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথের সহকারী অধ্যাপক কোনর ম্যাকমেনিম্যান এবং গবেষক দিয়েগা গিলারদো ও স্টেফানি রানকিন-টার্নার। গবেষকরা দেখতে পান, মানুষের শরীরের ঘামে থাকা নানা ধরনের রাসায়নিক উপাদানের কারণে মশার আকৃষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে তারতম্য ঘটে। ভিন্ন ভিন্ন মানুষের শরীরের ভিন্ন ভিন্ন গন্ধে মশা কতটা আকৃষ্ট হয়, তার তুলনা করা হয়।

শরীরের গন্ধ চিনে কামড়ায় মশা, বলছে গবেষণা

গবেষকরা দেখতে পান, কার্বোক্সিলিক অ্যাসিডের প্রতি সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট হয় মশা। এ অ্যাসিডের মধ্যে রয়েছে বিউটিরিক, যা দুর্গন্ধযুক্ত পনিরে পাওয়া যায়। এ অ্যাসিড মানুষের ত্বকে সৃষ্টির জন্য দায়ী এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া। পাশাপাশি ইউক্যালিপটল নামের এক ধরনের রাসায়নিকের প্রতিও তাদের আকর্ষণ বেশি, যা গাছগাছালিতে থাকে।

 

শরীরের গন্ধ চিনে কামড়ায় মশা, বলছে গবেষণা

 

মশা সাধারণত ফল-মূল, লতা-পাতা খায়। তবে স্ত্রী মশা ডিম ফোটানোর জন্য রক্তের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। কারণ তাদের প্রটিনের প্রয়োজন হয়। যার ফলে তারা মানুষকে কামড়ায়। কিন্তু এই কামড় মাঝে মাঝে মানুষের প্রাণঘাতীর কারণ হয়ে উঠে। কারণ মশার কামড়ের মাধ্যমে বিভিন্ন ভাইরাসজনিত রোগের সৃষ্টি হয়, যেগুলো প্রাণঘাতী নামেও পরিচিত। এই রোগগুলোর মধ্যে ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গুজ্বর হলো সব চেয়ে বিপজ্জনক।

গবেষক ম্যাকমেনিম্যান বলেছেন, বছরে ৬ লখেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী ম্যালেরিয়া। গবেষণার মূল লক্ষ্য ছিলো-ম্যালেরিয়া ছড়ানো মশা কীভাবে মানুষকে খুঁজে বের করে তা অনুসন্ধন করা। মশার একটি প্রজাতি অ্যানোফিলিস গাম্বিয়া ছিল এই গবেষণার মূলে। এই মশার অস্তিত্ব পাওয়া যায় আফ্রিকার সাব-সাহারা অঞ্চলে। নিউরোবায়োলজিস্ট ডা. লেসলি ভোসাল মশার আরেকটি প্রজাতি নিয়ে গবেষণা করেন। ডেঙ্গু জ্বর, চিকুনগুনিয়া এবং জিকা ছড়ায় এমন কিছু প্রজাতি নিয়ে তিনি গবেষণা করেন।

 

শরীরের গন্ধ চিনে কামড়ায় মশা, বলছে গবেষণা

 

গবেষণার ফলাফলে জানা যায়, এসব মশা এবং ম্যালেরিয়া মশা দুটি ভিন্ন প্রজাতি হলেও তারা একই রকম রাসায়নিক সংকেতে সাড়া দেয়। এসব গবেষণার বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে মশার এসব প্রজাতির ছড়িয়ে পড়ার গতি রোধ করা যেতে পারে। গবেষণাটির সহলেখক এডগার সিমুলুনডু বলেন, এ গবেষণার ফলাফল মশাকে প্রলোভনে ফেলা বা বিমুখ করার নতুন ধারণা সামনে নিয়ে এসেছে। এর মাধ্যমে মশাকে মানুষের প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার পথ বন্ধ করা যেতে পারে। এতে করে আফ্রিকা অঞ্চলে মহামারিতে পরিণত হওয়া ম্যালেরিয়াকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হতে পারে। 

Leave a Comment