শরীয়তপুরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার ঘটনায় উত্তেজনা

শরীয়তপুরে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে অবস্থিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের একটি অংশে অগ্নিসংযোগ ঘটেছে। শুক্রবার রাতে এই ঘটনা ঘটে বলে জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মহসিন মাদবর তাঁর ফেসবুক পেজে ১৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও শেয়ার করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, দুই-তিনজন ব্যক্তি স্মৃতিস্তম্ভে আগুন ধরাচ্ছেন এবং তা দ্রুত দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে। মহসিন মাদবর দাবি করেছেন, এই ঘটনা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরাই ঘটিয়েছে।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় যুব শক্তির নেতা-কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। জেলা পুলিশের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এবং সদর পালং মডেল থানার পুলিশ কর্মকর্তারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। আগুনের তাপে স্মৃতিস্তম্ভের মাঝ বরাবরে চারটি স্থানে কালো পোড়া দাগ লক্ষ্য করা গেছে।

স্মৃতিস্তম্ভটি হালকা কমলা রঙের এবং তার উপর জুলাই ৩৬ ও জুলাই বিপ্লবের বিভিন্ন স্লোগান লেখা রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন এটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় স্থানে নির্মাণ করেছে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক ইমরান আল নাজির জানিয়েছেন, “একটি ব্যস্ততম ও জনবহুল এলাকায় স্মৃতিস্তম্ভটি স্থাপন করা হয়েছে। কীভাবে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা এ ধরনের কাজ করতে পেরেছে, তা আমাদের ধারণার বাইরে। প্রশাসনের নীরবতার সুযোগে তারা সাহস দেখিয়েছে।”

এনসিপির জাতীয় যুব শক্তির শরীয়তপুর জেলা কমিটির আহ্বায়ক কাউসার মৃধা বলেন, “জুলাই শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা আসে। এই স্মৃতিসৌধে আঘাত আমরা মেনে নেব না। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। নাহলে আমরা জনগণ নিয়ে সরাসরি মাঠে নামব।”

শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার রওনক জাহান বলেন, “আমাদের কাছে ভিডিওটি এসেছে। ঘটনার সঠিক তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। যারা এই অপরাধে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।”

নিম্নের টেবিলে ঘটনাস্থল ও প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:

ঘটনাতারিখ ও সময়ক্ষতিগ্রস্ত অংশউপস্থিত প্রতিষ্ঠান ও নেতা-কর্মী
জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগ২৬ মার্চ, রাত ৯:৩০স্মৃতিস্তম্ভের মাঝ বরাবর চারটি স্থানে পোড়া দাগজেলা পুলিশ, পালং মডেল থানা, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, জাতীয় যুব শক্তি
ভিডিও শেয়ার২৬ মার্চ, রাত১৭ সেকেন্ডের ভিডিওজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মহসিন মাদবর

এ ঘটনা জেলা শহরের শান্তি ও সামাজিক সহাবস্থানের জন্য বড় ধরনের উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত তদন্ত চালাচ্ছে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এই ঘটনার পর স্থানীয় মানুষজন ও ছাত্র সংগঠনগুলো স্মৃতিসৌধ রক্ষায় আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।