শওকত হোসেন সরকার গাজীপুর সিটি প্রশাসক নির্বাচিত

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে শওকত হোসেন সরকারকে নিয়োগ করা হয়েছে। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) গাজীপুর মহানগর শাখার একজন প্রবীণ নেতা। দলের সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রশাসনে তাঁর বিস্তৃত অভিজ্ঞতা এবং রাজনৈতিক খ্যাতি এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে তাঁকে নির্বাচিত করার মূল কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

রাজনৈতিক ও পারিবারিক পটভূমি

শওকত হোসেন সরকার কাশিমপুর এলাকার বাসিন্দা এবং বর্তমানে গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবন পরিবারিক ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তিনি কাশিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান জিয়াউদ্দিন সরকারের পুত্র এবং তিন প্রজন্ম ধরে স্থানীয় সরকারের নেতৃত্বের পরিবারের একজন।

পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য

প্রজন্মনামপদবীমেয়াদএলাকা
দাদাজাভেদ আলী সরকারচেয়ারম্যান১০ বছরকাশিমপুর ইউনিয়ন
চাচাসোহরাব উদ্দিন সরকারচেয়ারম্যান১০ বছরকাশিমপুর ইউনিয়ন
পিতাজিয়াউদ্দিন সরকারচেয়ারম্যান~১০ বছরকাশিমপুর ইউনিয়ন
নিজেশওকত হোসেন সরকারচেয়ারম্যান (২০০৩–২০১২), প্রশাসক (২০২৬–বর্তমান)২০০৩–২০১২ (চেয়ারম্যান), ২০২৬–বর্তমান (প্রশাসক)কাশিমপুর/গাজীপুর সিটি

শওকত হোসেন সরকার ২০০৩ থেকে কাশিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রতিষ্ঠার পর তিনি স্থানীয় প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। পারিবারিক ঐতিহ্য এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক কার্যক্রম তাঁকে পৌর প্রশাসনে অভিজ্ঞ ও দক্ষ নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব

দলের সূত্রে জানা যায়, শওকত হোসেন সরকারের নিয়োগের উদ্দেশ্য হলো গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসনকে আরও কার্যকর করা। তাঁর প্রধান দায়িত্বসমূহ হলো:

  • চলমান উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ পর্যবেক্ষণ করা

  • নাগরিক সেবার কার্যকারিতা নিশ্চিত করা

  • প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা

  • স্থানীয় ব্যবসা ও নাগরিক অংশগ্রহণ উৎসাহিত করা

নিয়োগের পর শওকত হোসেন সরকার সাংবাদিকদের বলেন, “গাজীপুরবাসীর প্রত্যাশা পূরণে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব এবং সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।”

তাঁর এই নিয়োগের মাধ্যমে আশা করা হচ্ছে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল, কার্যকরী এবং জনগণের প্রতি উত্তরদায়ী হবে। প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে থাকবে নগর উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর গতি ত্বরান্বিত করা এবং নাগরিক সেবার মান নিশ্চিত করা, যা স্থানীয় সরকারের প্রতি জনতার বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করবে।

এই নিয়োগ শহরের প্রশাসনিক দক্ষতা ও নাগরিক সেবার মান বৃদ্ধিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে।