লোডশেডিং শিগগিরই কমছে না। ঘূর্ণিঝড় মোকার কারণে গত শুক্রবার (১২ মে) রাত ১১টায় ভাসমান দুটি এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করা হয়। এরপর থেকে সারাদেশে গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। টানা তিন দিন বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার (১৬ মে) থেকে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ আংশিকভাবে শুরু হয়েছে। এতে সার্বিক গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। তবে লোডশেডিং শিগগিরই কমছে না।
বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) তথ্যে বলা হয়েছে, দিনে গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৪০০ কোটি ঘনফুট। সর্বোচ্চ সরবরাহ করা হয় গড়ে ২৮০ থেকে ২৮৫ কোটি ঘনফুট। সেখানে সোমবার সকালে সরবরাহ করা হয় মাত্র ২১৭ কোটি ঘনফুট।
লোডশেডিং শিগগিরই কমছে না
বিদেশ থেকে এলএনজি আমদানি করে মহেশখালীর ভাসমান টার্মিনালের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়। পেট্রোবাংলা সূত্র বলছে, সমুদ্রে ভাসমান দুটি টার্মিনালের একটি পরিচালনা করে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি। আরেকটি পরিচালনা করে সামিট গ্রুপ। ঘূর্ণিঝড় মোকার আঘাতের পর এক্সিলারেট তাদের টার্মিনালটি গভীর সমুদ্রে সরিয়ে নেয়। এটি ফিরতে শুরু করেছে। আবার চালু করতে দুই সপ্তাহ লাগতে পারে।

ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, ময়মনসিংহ এলাকায় গ্যাস সরবরাহ করে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। তারা বলছে, গ্যাস সরবরাহ নিয়ে গত তিন ধরেই তিতাসের অভিযোগ কেন্দ্রে ফোন করছেন বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকেরা। আবার কোনো কোনো এলাকায় গ্যাস থাকলেও চাপ কমে যাওয়ায় রান্না করা মুশকিল হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় সিএনজি স্টেশনও গ্যাস পাচ্ছে না।
এদিকে, গ্যাসের অভাবে চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা অঞ্চলের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করতে পারেনি বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে দিনে সাড়ে ছয় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হলেও এখন তা সাড়ে চার হাজার মেগাওয়াটে নেমে গেছে। দিনে তিন হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং করতে হচ্ছে। ঢাকাতেও গত কয়েকদিন ধরে লোডশেডিং বেড়েছে।
পিডিবির কর্মকর্তারা বলছেন, ঢাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের একটি বড় অংশ আসে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে। সিদ্ধিরগঞ্জ, আশুগঞ্জ, হরিপুর, ঘোড়াশালের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রাখা হচ্ছে। গ্যাসের চাপ কম থাকায় এগুলো চালানো যাচ্ছে না।
কয়লার অভাবে গত ২৪ এপ্রিল থেকে বন্ধ আছে বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র। আগামী তিন দিনে গ্যাস সরবরাহ তেমন বাড়বে বলে মনে হচ্ছে না। তবে মঙ্গলবার রামপাল উৎপাদন শুরু হয়েছে। এতে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। তবে সহসাই বিদ্যুতের লোডশেডিং কমবে না।