দেশে গত এক বছরে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রে সংঘটিত খুনাখুনির ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সময়ের মধ্যে রাজনৈতিক সহিংসতায় আড়াই শতাধিক মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং শতাধিক ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এসব ঘটনায় জুলাই গণ-আন্দোলনের সময় বিভিন্ন থানা, ফাঁড়ি ও পুলিশি স্থাপনা থেকে লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর থেকে যৌথ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান শুরু হয়। অভিযান চলাকালীন সময়ে ৫,৭৫৩টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট হওয়া পাওয়া যায়। এর মধ্যে গণভবন থেকে লুট হওয়া স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) ৩২টি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন অস্ত্র রয়েছে। যদিও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অভিযানে বেশির ভাগ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে, এখনও ১,৩৩৫টি অস্ত্র এবং ২,৫৭,১৮৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়নি।
থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের ধরন ও সংখ্যা
| অস্ত্রের ধরন | সংখ্যা | মন্তব্য |
|---|---|---|
| চায়না রাইফেল | ৩৪৮ | বিভিন্ন মডেল |
| শটগান | ৭০৩ | – |
| সাবমেশিনগান (টি-৫৬) | ৩০ | চায়না মডেল |
| লাইট মেশিনগান (এলএমজি) | ১৩ | – |
| পিস্তল (টি-৫৪) | ৮৯ | চায়না মডেল |
| অন্যান্য পিস্তল | ৫৬০ | – |
গত বছরের উল্লেখযোগ্য হত্যাকাণ্ডের মধ্যে রয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ উসমান হাদি, চট্টগ্রামের রাউজান ও মহাখালী, নরসিংদী পলাশের খুন। এছাড়া, বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাসীদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সূত্র জানায়, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন সীমান্ত থেকে ৬৪টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়াও ৪,০০০-এর বেশি গুলি, শতাধিক হাতবোমা এবং হ্যান্ড গ্রেনেড জব্দ করা হয়েছে। অবৈধ অস্ত্রের প্রবেশ প্রধানত বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি, কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়া, কুমিল্লা, রাজশাহীর গোদাগাড়ী, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ, আজমতপুর ও ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত এলাকা থেকে হচ্ছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জানিয়েছেন, ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ অভিযান চলাকালে ১৩,০০০-এর বেশি আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ১৬২টি অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। র্যাবও গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪৮৪টি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করেছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্র প্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। অপরাধ বিশ্লেষকরা মনে করেন, থানা থেকে লুট হওয়া এসব অস্ত্র দ্রুত উদ্ধার না করলে সামাজিক অস্থিতিশীলতা ও খুনাখুনির হার আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম সম্প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন, নির্বাচনের আগে লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে মাঠ পর্যায়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের তৎপরতা বাড়াতে। অবৈধ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধার ছাড়া শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়, এমনটাই মনে করছেন আইন-শৃঙ্খলা বিশ্লেষকরা।
