জনস্বার্থে আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত করার দাবি জানিয়ে একটি আইনি নোটিশ প্রদান করেছেন। নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী সাত দিনের মধ্যে যদি রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার এবং সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তবে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট দায়ের করা হবে।
রোববার সুপ্রিম কোর্টে প্রধান সরকারি কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা সংস্থার প্রধানদের হাতে নোটিশ হস্তান্তর করা হয়। হস্তান্তরিতদের মধ্যে ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, নির্বাচন কমিশনের সচিব, আইজিপি এবং র্যাবের মহাপরিচালক।
নোটিশে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই মাসের গণভোট আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে। তবে দেশে অবৈধ অস্ত্র এখনও উদ্ধার হয়নি, ফলে নির্বাচনী মাঠ ‘বারুদের স্তূপে’ পরিণত হয়েছে। নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ওসমান হাদির ওপর গুলির ঘটনা নির্বাচনের নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও প্রকট করেছে।
আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, প্রার্থীদের জীবনহানি এবং নাগরিকদের ‘জীবনের অধিকার’ রক্ষার জন্য নির্বাচন অবিলম্বে স্থগিত করা প্রয়োজন। নোটিশে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, জুলাই সনদ গণভোট জাতীয় ঐক্যের বিষয়, এবং এটি সহিংস প্রতিযোগিতার সুযোগ থেকে মুক্ত রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। লুট হওয়া সব অস্ত্র উদ্ধার এবং নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন স্থগিত রাখাই সবচেয়ে নিরাপদ বিকল্প।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই আইনি নোটিশ সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার দিকে। এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঝেও জনগণের জীবন ও নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে।
নোটিশটি শুধু নিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করছে না, বরং এটি দেশের নির্বাচনী পরিবেশকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকারের দায়িত্বকেও সামনে এনেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, যদি সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তবে নির্বাচনী সহিংসতা এবং নাগরিক জীবনের ওপর ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।
সারসংক্ষেপে, আইনজীবীর নোটিশ দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ ও নির্বাচন স্থগিত করার দাবি তুলে ধরেছে, যা নির্বাচনী কমিশন এবং সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য সতর্কতার বার্তা হিসেবে কাজ করছে।
