ইংল্যান্ড ক্রিকেটের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালামের জন্য চাপময় হয়ে উঠেছে। অ্যাশেজ সিরিজে লজ্জাজনক হার এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে বিদায়ের পর সমালোচনার চাপ ক্রমেই বেড়েছে। সেই চাপ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে লিয়াম লিভিংস্টোনের অভিযোগের কারণে, যিনি সরাসরি কোচ ম্যাককালাম ও ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) ম্যানেজিং ডিরেক্টর রব কির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন।
লিভিংস্টোনের অভিযোগের মূল বিষয় হলো দল থেকে বাদ পড়া খেলোয়াড়দের সঙ্গে অনীহা ও বাজে ব্যবহার। ইংল্যান্ডের হয়ে সব ফরম্যাট মিলিয়ে শতাধিক ম্যাচ খেলা লিভিংস্টোন প্রায় এক বছর ধরে কোনো ফরম্যাটের দলে সুযোগ পাননি। এতে তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভবিষ্যৎ শঙ্কার মধ্যে রয়েছে।
২০২৫ সালের ভারত সফরে হতাশাজনক পারফরম্যান্স এবং চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাজে খেলার পর থেকে লিভিংস্টোনের দলে জায়গা সংকুচিত হয়। তিনি জানিয়েছেন, “ম্যাককালামের সঙ্গে এক মিনিটেরও কম সময় কথা হয়েছে। আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম, কেন বাদ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বললেন নতুন কাউকে খেলাতে চান। রাইটিও (সাবেক নির্বাচক লুক রাইট) কোনো কথা বলেননি। ব্রুকি (হ্যারি ব্রুক) মাত্র একটি বার্তা পাঠিয়েছিল।”
লিভিংস্টোনের সবচেয়ে বড় ক্ষোভ ম্যানেজিং ডিরেক্টর রব কির ওপর। তিনি বলেছেন, “রব বলেছিলেন, তোমার সঙ্গে কথা বলার চেয়ে তার আরও গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে। এটি থেকেই দলের মনোভাব বোঝা যায়। বাদ পড়ার সময় রব কিছু বলেননি। একদিন ফোন করেছিলাম, তিনি ব্যস্ত বলে বললেন। এরপর থেকে কোনো যোগাযোগ হয়নি।”
নিচে লিভিংস্টোনের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার এবং বর্তমান অবস্থার সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | তথ্য | মন্তব্য |
|---|---|---|
| জাতীয় দলের মোট ম্যাচ | ১০০+ | সব ফরম্যাট মিলিয়ে |
| সর্বশেষ আন্তর্জাতিক খেলা | ২০২৫ | ভারত সফর ও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর |
| বাদ দেওয়ার পদ্ধতি | ফোন কল | প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ছাড়াই |
| কোচের সঙ্গে যোগাযোগ | এক মিনিটেরও কম | যথেষ্ট আলোচনা হয়নি |
| বোর্ডের সঙ্গে সম্পর্ক | শঙ্কাপূর্ণ | ম্যানেজিং ডিরেক্টর ব্যস্ত থাকার অজুহাত |
| বর্তমান অবস্থা | দলে নেই | আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অনিশ্চয়তা |
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সঙ্গে যথাযথ যোগাযোগ ও ন্যায়সংগত ব্যবস্থাপনার অভাব ইংল্যান্ড ক্রিকেটের জন্য উদ্বেগের বিষয়। লিভিংস্টোনের অবদানকে পুরোপুরি মূল্যায়ন না করা দলের পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সার্বিকভাবে, লিভিংস্টোনের অভিযোগ ইংল্যান্ড ক্রিকেটের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। এটি বোর্ড ও কোচিং স্ট্রাকচারের জন্য পরীক্ষা হিসেবে দেখা হবে, যেখানে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই ঘটনা শুধু একজন খেলোয়াড়ের প্রেক্ষাপট নয়, বরং ইংল্যান্ডের ক্রিকেটের ব্যবস্থাপনাগত সংস্কৃতি ও খেলোয়াড়দের মূল্যায়নের বিষয়েও বড় প্রশ্ন উত্থাপন করছে।
