লিপেডেমা সন্দেহে খোলামেলা ডোজা ক্যাট

জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ডোজা ক্যাট সম্প্রতি নিজের শরীরের গঠন, অস্ত্রোপচার এবং সম্ভাব্য একটি স্বাস্থ্যসমস্যা নিয়ে খোলামেলা বক্তব্য দিয়েছেন। গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে তাঁর শরীরের নির্দিষ্ট কিছু অংশে অস্বাভাবিকভাবে চর্বি জমার যে অভিজ্ঞতা ছিল, তা হয়তো লিপেডেমা নামের একটি শারীরিক অবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

ত্রিশ বছর বয়সী এই শিল্পী বলেন, হঠাৎ করেই তিনি বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেন এবং সেটিকে নিজের জীবনের এক ধরনের উপলব্ধি হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি জানান, বিভিন্ন মানুষের লিপেডেমা সম্পর্কিত ছবি ও তথ্য দেখার পর তাঁর মনে হয়েছে, নিজের শরীরের গঠন সেই লক্ষণগুলোর সঙ্গে অনেকটাই মিল রয়েছে।

লিপেডেমা এমন একটি দীর্ঘমেয়াদি অবস্থা, যেখানে শরীরের বিশেষ করে পা, উরু বা বাহুর অংশে অস্বাভাবিকভাবে চর্বি জমে থাকে। সাধারণ ব্যায়াম বা খাদ্যনিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অনেক সময় এই চর্বি কমানো কঠিন হয়ে পড়ে। চিকিৎসকদের মতে, এই সমস্যাটি ধীরে ধীরে বাড়তে পারে এবং গুরুতর অবস্থায় তা চলাফেরায়ও বাধা সৃষ্টি করতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এটি বংশগতভাবেও দেখা যায়।

ডোজা ক্যাট জানান, তাঁর ধারণা অনুযায়ী পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যেও একই ধরনের শারীরিক গঠন থাকতে পারে। সে কারণে তিনি মনে করেন, তাঁর ক্ষেত্রেও এটি বংশগত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শিল্পী স্মৃতিচারণ করে বলেন, অতীতে বিভিন্ন সংগীতচিত্র ধারণের সময় নিজের শরীরের মাপ নিয়ে তিনি প্রায়ই অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। একবার একটি বিশেষ পোশাক তৈরি করার জন্য তিনি নিজের শরীরের মাপ পাঠালে প্রস্তুতকারকেরা সেটিকে অবিশ্বাস্য বলে মন্তব্য করেছিলেন। সেই সময় থেকেই তিনি উপলব্ধি করতে শুরু করেন, তাঁর শরীরের গঠন অন্যদের তুলনায় আলাদা।

তিনি আরও জানান, তিনি কখনোই গুরুতরভাবে অতিরিক্ত ওজনের ছিলেন না। তবে নিতম্ব, উরু, হাঁটু ও পায়ের পেশিতে তুলনামূলক বেশি চর্বি জমে থাকত। এই অস্বাভাবিক গঠন তাঁর কাছে অনেক সময় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াত।

দুই হাজার তেইশ সালে তিনি শরীরের কিছু অংশের অতিরিক্ত চর্বি অপসারণের জন্য অস্ত্রোপচার করান। সে সময় মূলত উরু, কোমর এবং পিঠের নিচের অংশে জমে থাকা চর্বি কমানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু পরে তিনি উপলব্ধি করেন, অস্ত্রোপচারের ফল পুরোপুরি সন্তোষজনক হয়নি।

অস্ত্রোপচারের পর শরীরের ভারসাম্যে পরিবর্তন দেখা দেয়। তিনি জানান, উরুর চর্বি কমে যাওয়ার ফলে নিতম্ব তুলনামূলকভাবে অনেক বড় দেখাতে শুরু করে। এতে শরীরের গঠনে অস্বাভাবিকতা তৈরি হয়। পরে আবার অস্ত্রোপচার করে সেই অংশের কিছু চর্বি কমাতে হয়। তবে অতীতে অতিরিক্ত চর্বি থাকার কারণে এখন কিছু জায়গায় ত্বক ঢিলে হয়ে গেছে।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, লিপেডেমা সম্পর্কে সচেতনতা এখনো সীমিত। অনেকেই এটিকে সাধারণ স্থূলতা বা ত্বকের সমস্যা মনে করে ভুল করেন। নিচের সারণিতে এই অবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হলো।

পর্যায়প্রধান লক্ষণ
প্রথম পর্যায়ত্বকের নিচে ছোট ছোট গাঁটের মতো অনুভূতি ও সামান্য অমসৃণতা
দ্বিতীয় পর্যায়ত্বকের অমসৃণতা বাড়ে এবং চর্বির স্তর ঘন হয়
তৃতীয় পর্যায়পা বা বাহুর আকার স্পষ্টভাবে বড় হয়ে যায়
চতুর্থ পর্যায়তীব্র ফোলা সৃষ্টি হয় এবং চলাফেরায় সমস্যা দেখা দেয়

ডোজা ক্যাটের এই অভিজ্ঞতা প্রকাশের ফলে অনেক ভক্ত ও অনুসারী বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, জনসমক্ষে পরিচিত ব্যক্তিদের এমন খোলামেলা বক্তব্য অনেক সময় স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিষয়ে মানুষের সচেতনতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।