লাল কার্ডে বার্সার পতন আতলেতিকোর জয়

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে নাটকীয় এক ম্যাচে আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে ২–০ ব্যবধানে হেরে বড় ধাক্কা খেল বার্সেলোনা। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এক লাল কার্ড পুরো খেলাটির মোড় ঘুরিয়ে দেয়, আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ১৯ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটায় আতলেতিকো।

ম্যাচের শুরুটা ছিল বার্সেলোনার দাপুটে। আক্রমণাত্মক ফুটবলে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে তারা। বাঁ প্রান্তে মার্কাস র‍্যাশফোর্ড বারবার আক্রমণ তৈরি করলেও শেষ মুহূর্তে গোলের সুযোগ কাজে লাগানো যায়নি। জোয়াও ক্যানসেলোও কয়েকটি সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু লক্ষ্যভেদে ব্যর্থ হন বার্সার খেলোয়াড়রা।

খেলার মোড় ঘুরে যায় প্রথমার্ধের ৪৩তম মিনিটে। ১৯ বছর বয়সী ডিফেন্ডার পাউ কুবারসি প্রতিপক্ষের এক আক্রমণ থামাতে গিয়ে জুলিয়ানো সিমেওনেকে ফেলে দেন। প্রথমে রেফারি হলুদ কার্ড দেখালেও ভিডিও পর্যালোচনার পর সেটি লাল কার্ডে রূপ নেয়। ফলে দশ জনের দলে পরিণত হয় বার্সেলোনা, আর সেখান থেকেই শুরু হয় তাদের বিপর্যয়।

এরপরই ফ্রি কিক থেকে দারুণ এক শটে গোল করেন জুলিয়ান আলভারেজ। তার নিখুঁত শট বার্সেলোনার গোলরক্ষককে পরাস্ত করে আতলেতিকোকে এগিয়ে দেয়। দশ জনের বার্সেলোনার জন্য পরিস্থিতি তখন আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও বার্সেলোনা আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি। বরং খেলা শেষ হওয়ার প্রায় ২০ মিনিট আগে আলেকজান্ডার সোরলথ ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। আন্তোয়ান গ্রিজমান ও রুজেরির সমন্বয়ে তৈরি আক্রমণ থেকে তিনি জেরার্ড মার্টিনকে পরাস্ত করে বল জালে পাঠান।

এই জয়ে আতলেতিকোর জন্য এসেছে ঐতিহাসিক সাফল্য। দীর্ঘ ১৯ বছর পর তারা ক্যাম্প ন্যুতে জয় পেল। পাশাপাশি কোচ দিয়েগো সিমেওনের অধীনে এই মাঠে এটি প্রথম জয়। নভেম্বর ২০২৫-এ সংস্কারের পর পুনরায় খোলা মাঠে বার্সেলোনার এটি ছিল প্রথম হারও।

ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত

সময়ঘটনা
৪৩ মিনিটপাউ কুবারসির লাল কার্ড (প্রথমে হলুদ, পরে ভিএআর পর্যালোচনায় লাল)
৪৫ মিনিটজুলিয়ান আলভারেজ ফ্রি কিক থেকে গোল
৭০ মিনিটআলেকজান্ডার সোরলথের দ্বিতীয় গোল
পুরো ম্যাচবার্সেলোনার ১০ জনে খেলা ও প্রতিরোধের চেষ্টা

২০১৫ সালের পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের স্বপ্নে থাকা বার্সেলোনার সামনে এখন কঠিন চ্যালেঞ্জ। দ্বিতীয় লেগে অন্তত তিন গোলের ব্যবধানে জয় প্রয়োজন, আর দুই গোলে জিতলেও ম্যাচ গড়াতে পারে অতিরিক্ত সময় বা টাইব্রেকারে।

অন্যদিকে আতলেতিকো আত্মবিশ্বাসে ভরপুর। ২০১৪ ও ২০১৬ সালে তারা বার্সেলোনাকে বিদায় দিয়েছিল কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই। এবারও তারা ইতিহাস পুনরাবৃত্তির খুব কাছে পৌঁছে গেছে।