লঞ্চ ধাক্কায় তরমুজবাহী ট্রলার ডুবে, নিহত ২

পটুয়াখালীর বাউফলে একটি তরমুজবাহী ট্রলার ঢাকা-পটুয়াখালীগামী এমভি আওলাদ-৭ লঞ্চের ধাক্কায় ডুবে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) ভোরে উপজেলার লোহালিয়া নদীর বামনিকাঠী এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন রেজাউল করিম (২৮) এবং নাছির উদ্দিন ফকির (৪২)। রেজাউল করিম রাঙ্গাবালী উপজেলার চর লাটসাহেব এলাকার ওয়াজেদ হাওলাদারের ছেলে এবং নাছির উদ্দিন ফকির একই উপজেলার চবেষ্টিন এলাকার আব্দুল ফকিরের ছেলে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকার বাসিন্দারা জানান, দুর্ঘটনার সময় রাঙ্গাবালী থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে তরমুজবাহী ট্রলারটি নদী পথে যাত্রা করছিল। ভোরে বামনিকাঠী পয়েন্টে পৌঁছানোর সময় ঢাকার পথে যাচ্ছিল এমভি আওলাদ-৭ লঞ্চটি ট্রলারের ধাক্কা দেয়। এতে ট্রলারটি মুহূর্তের মধ্যে ডুবে যায়। ট্রলারের অন্য যাত্রীরা তীরে উঠে প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হলেও রেজাউল ও নাছির ঘটনাস্থলেই মারা যান।

স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় নদীর ওপর ঘন কুয়াশা ছিল। এছাড়া ট্রলারের চালক ছাড়া অন্যান্য যাত্রীরা ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন। ঘন কুয়াশা এবং অপ্রত্যাশিত ধাক্কা দুর্ঘটনার মূল কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কালাইয়া বন্দর নৌ পুলিশের ইনচার্জ আল-মামুন জানান, ঘটনার সঠিক কারণ নির্ণয় করার জন্য তদন্ত চলছে। আইন অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার তথ্য নিম্নরূপ:

বিষয়তথ্য
দুর্ঘটনার তারিখ ও সময়২৫ মার্চ, ভোর
দুর্ঘটনার স্থানলোহালিয়া নদী, বামনিকাঠী, বাউফল, পটুয়াখালী
নিহত ব্যক্তিরেজাউল করিম (২৮), নাছির উদ্দিন ফকির (৪২)
লঞ্চের নামএমভি আওলাদ-৭ (ঢাকা-পটুয়াখালী)
দুর্ঘটনার কারণঘন কুয়াশা ও লঞ্চের ধাক্কা (প্রাথমিক অনুমান)
উদ্ধারকাজের অবস্থাতীরে অন্যান্য যাত্রীরা নিরাপদে উঠেছে
দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশকালাইয়া বন্দর নৌ পুলিশ ফাঁড়ি, ইনচার্জ আল-মামুন

উপজেলার স্থানীয়রা বলেন, নদী পথে মালবাহী ট্রলার এবং লঞ্চ চলাচল অনেকটাই ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে ঘন কুয়াশা ও অপ্রত্যাশিত যানবাহনের সংঘর্ষ এ ধরনের দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, প্রশাসন ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করবে, যাতে নদীপথে চলাচলকারী শ্রমিক ও যাত্রীদের জীবন ঝুঁকিতে না পড়ে।

এ ঘটনা আবারও স্মরণ করিয়ে দিলো, নদীপথে চলাচলের সময় সতর্কতা, পর্যাপ্ত সিগন্যাল এবং পর্যবেক্ষণ অপরিহার্য।