শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটে (এসএলসি) নতুন এক যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি ক্রিকেটার এবং ভারতকে ২০১১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ জেতানো প্রখ্যাত কোচ গ্যারি কারস্টেন লঙ্কান জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। আজ মঙ্গলবার এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড এই রোমাঞ্চকর তথ্যটি নিশ্চিত করেছে। আগামী ১৫ এপ্রিল ২০২৬ থেকে তাঁর এই নতুন দায়িত্বের মেয়াদ কার্যকর হবে এবং প্রাথমিকভাবে তিনি দুই বছরের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন।
নিয়োগের প্রেক্ষাপট ও লক্ষ্য
সদ্য সমাপ্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্ব থেকে শ্রীলঙ্কার হতাশাজনক বিদায়ের পর প্রধান কোচের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন লঙ্কান ক্রিকেটের বরপুত্র সনাৎ জয়াসুরিয়া। জয়াসুরিয়ার উত্তরসূরি হিসেবে কারস্টেনকে বেছে নেওয়া হয়েছে মূলত লঙ্কান ক্রিকেটের হাই পারফরম্যান্স কাঠামোর ব্যাপক আমূল পরিবর্তনের জন্য। এসএলসি-এর বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কারস্টেনের প্রধান লক্ষ্য হবে ২০২৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা, নামিবিয়া ও জিম্বাবুয়েতে অনুষ্ঠেয় আইসিসি পুরুষ ক্রিকেট বিশ্বকাপের জন্য লঙ্কানদের একটি শক্তিশালী ও বিশ্বমানের দলে রূপান্তরিত করা।
কোচিং ক্যারিয়ারের বর্ণাঢ্য ইতিহাস
গ্যারি কারস্টেন আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম সফল একজন কোচ হিসেবে স্বীকৃত। ২০০৮ সালে ভারতের প্রধান কোচের দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি দেশটিকে সাফল্যের চরম শিখরে নিয়ে যান। তাঁর প্রশিক্ষণেই ভারত দীর্ঘ ২৮ বছর পর ২০১১ সালে ঘরের মাটিতে বিশ্বকাপের ট্রফি উঁচিয়ে ধরে। এরপর নিজ দেশ দক্ষিণ আফ্রিকার দায়িত্ব নিয়ে প্রোটিয়াদের তিন সংস্করণেই (টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি) আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ের ১ নম্বর অবস্থানে তুলেছিলেন তিনি। লঙ্কান ডেরায় যোগ দেওয়ার আগে সবশেষ বিশ্বকাপে তিনি নামিবিয়া দলের কৌশলগত পরামর্শক হিসেবেও দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন।
কারস্টেনের কোচিং ক্যারিয়ারের মাইলফলকগুলো নিচে এক নজরে দেওয়া হলো:
| সময়কাল | দল/সংস্থা | প্রধান অর্জন |
| ২০০৮–২০১১ | ভারত | ২০১১ ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয় এবং টেস্টে ১ নম্বর হওয়া। |
| ২০১১–২০১৩ | দক্ষিণ আফ্রিকা | সব সংস্করণে আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ের ১ নম্বরে ওঠা। |
| ২০২০–২০২৪ | আইপিএল ও অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজি | গুজরাট টাইটানসকে আইপিএল শিরোপা জেতাতে সাহায্য করা। |
| ২০২৬ (এপ্রিল) | শ্রীলঙ্কা | ২০২৭ বিশ্বকাপের লক্ষ্য নিয়ে নতুন যাত্রা শুরু। |
খেলোয়াড় হিসেবে উজ্জ্বল ক্যারিয়ার
কেবল কোচ হিসেবেই নয়, একজন ক্রিকেটার হিসেবেও গ্যারি কারস্টেন ছিলেন বিশ্বসেরাদের একজন। ১৯৯৩ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে উদ্বোধনী ব্যাটার হিসেবে তিনি অত্যন্ত নির্ভরতার পরিচয় দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সব মিলিয়ে তাঁর সংগ্রহ ১৪,০৮৭ রান। তিনি টেস্ট ক্রিকেটে ২১টি এবং ওয়ানডে ক্রিকেটে ১৩টি দর্শনীয় সেঞ্চুরি করেছেন। বড় ম্যাচ এবং দীর্ঘ ইনিংস খেলার মানসিকতা তাঁর অন্যতম বড় গুণ হিসেবে বিবেচিত হতো, যা এখন তিনি লঙ্কান ব্যাটারদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে চাইবেন।
শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট বর্তমানে একটি রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা, চরিথ আসালাঙ্কাদের মতো প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের নিয়ে গড়া এই দলটির মানসিক কাঠামোর উন্নয়নে কারস্টেনের অভিজ্ঞতা অমূল্য ভূমিকা পালন করবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। অভিজ্ঞ এই কোচের অধীনে লঙ্কানরা তাদের হারানো গৌরব ফিরে পাবে—এমনটাই ভক্তদের প্রত্যাশা।
