লক্ষ্মীপুরে পুলিশের সঙ্গে ছাত্র সংঘর্ষ, আহত ৮

লক্ষ্মীপুর শহরের চকবাজার এলাকায় রবিবার (৫ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পুলিশের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজও রয়েছেন। আহতদের মধ্যে বাকি জনের নাম-পরিচয় এখনও জানা যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, সংঘর্ষের সময় আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক সাইফুল ইসলাম মুরাদসহ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।

সংঘর্ষের পটভূমি

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে লক্ষ্মীপুর শহরের হাসপাতাল রোডে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন লক্ষ্মীপুর শাখার কর্মী হাবিবুর রহমান ফাহিম এবং জেলা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক আকবর হোসেন মুন্নার মধ্যে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে শারীরিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার বিকেলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা চকবাজার মসজিদের সামনে থেকে প্রতিবাদ মিছিল করার ঘোষণা দেন। একই সময়ে “জুলাই ফাইটার্স” ব্যানারে জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ওই এলাকায় সমাবেশের আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেন।

প্রশাসনের পদক্ষেপ

ঘটনার প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা বিকেল ৪টার দিকে শহরের কিছু অংশে ১৪৪ ধারা জারি করেন। এই ধারা আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের ফলে চকবাজার ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা কড়াকড়ি বৃদ্ধি পায়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, “দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থলে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। আমরা ঘটনাস্থল অবস্থান করে দুই পক্ষকে আলাদা করেছি। এতে ওসিসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।”

এলাকায় পরিস্থিতি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান

ঘটনার সময় শহরের ব্যবসায়ীরা আতঙ্কিত হয়ে দোকানপাট বন্ধ করে দেন। পুলিশ আরও জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত অতিরিক্ত নিরাপত্তা বজায় রাখা হবে।

ঘটনার সময়সূচি ও অংশগ্রহণকারীরা

সময়ঘটনাঅংশগ্রহণকারীরা
শনিবার রাতহাসপাতাল রোডে দ্বন্দ্ববৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কর্মী, জেলা ছাত্রদল কর্মী
রবিবার বিকেল ৪টা১৪৪ ধারা জারিউপজেলা প্রশাসন
রবিবার বিকেল ৫টাচকবাজার মসজিদের সামনে মিছিলবৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, জেলা ছাত্রদল (জুলাই ফাইটার্স ব্যানার)
সংঘর্ষের ফলআহতওসি ওয়াহিদ পারভেজসহ ৮ জন

জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাসান মাহমুদ ইব্রাহিম বলেন, “এখানে ছাত্রদলের কোনো কর্মসূচি ছিল না। জুলাই ফাইটার্সের প্রোগ্রাম ছিল। এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।” অন্যদিকে, জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যসচিব শাহেদুর রহমান রাফির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সদর ও শহর এলাকায় বর্তমানে পুলিশ কঠোর নিরাপত্তা বজায় রাখছে এবং পরিস্থিতি শান্ত করতে অতিরিক্ত টহলদারি চালানো হচ্ছে।