লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার বটতলী–দত্তপাড়া সড়কের সংস্কারকাজে অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগে এলাকাবাসী ঝাড়ু হাতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন। বৃহস্পতিবার (আজ) সকাল থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের ফলে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে ঢাকা–লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। এতে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স, কর্মজীবী মানুষসহ সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
বেলা ১১টার দিকে বটতলী এলাকায় বিভিন্ন বয়স ও পেশার মানুষ একত্রিত হন। তাঁরা ঝাড়ু হাতে মিছিল বের করে ‘নিম্নমানের কাজ চলবে না’, ‘জনগণের টাকা অপচয় বন্ধ করো’—এমন নানা স্লোগান দেন। পরে বিক্ষোভকারীরা আঞ্চলিক মহাসড়কে অবস্থান নিলে পুরো সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কয়েক কিলোমিটারজুড়ে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, দোকানপাট বন্ধ রাখতে বাধ্য হন তাঁরা, এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন অনেকেই।
পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বেলা দেড়টার দিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) লক্ষ্মীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সড়কটির কাজের মান যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। তাঁর আশ্বাসের পর এলাকাবাসী অবরোধ তুলে নেন এবং যান চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাত্র দুই মাস আগে সংস্কারকাজ শেষ হলেও সড়কের বিভিন্ন অংশ ইতিমধ্যে দেবে গেছে। অনেক জায়গায় কার্পেটিং উঠে ফেটে গেছে, কোথাও কোথাও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ভারী যানবাহন চলাচল করলে সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত সংস্কার না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সড়কটির সংস্কারকাজ গত বছরের নভেম্বর মাসে শেষ হয়। প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের জন্য উল্লেখযোগ্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তবে কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বিল এখনো চূড়ান্তভাবে পরিশোধ করা হয়নি।
নিচের ছকে প্রকল্পটির সংক্ষিপ্ত তথ্য তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| সড়কের নাম | বটতলী–দত্তপাড়া সড়ক |
| দৈর্ঘ্য | প্রায় ২ কিলোমিটার |
| বরাদ্দকৃত অর্থ | প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা |
| বাস্তবায়নকারী সংস্থা | স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) |
| ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান | মজিবুর ট্রেডার্স |
| কাজ সম্পন্নের সময় | নভেম্বর (গত বছর) |
বিক্ষোভকারী মো. ফয়সাল মিয়া বলেন, সড়ক সংস্কারের নামে জনগণের করের টাকা অপচয় করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে নিম্নমানের কাজ হয়েছে এবং কাজ চলাকালে যথাযথ তদারকি ছিল না। একাধিক বিক্ষোভকারী জানান, তাঁরা আগেও মৌখিক ও লিখিতভাবে অভিযোগ দিয়েছেন, কিন্তু কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরী বলেন, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং কাজটি তাঁর যোগদানের আগেই সম্পন্ন হয়েছে। নিম্নমানের অভিযোগের কারণে ঠিকাদারকে এখনো বিল দেওয়া হয়নি। বিষয়টি সরেজমিন পরিদর্শনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। এলাকাবাসী আশা করছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে সড়কটি আবার নিরাপদ ও টেকসই হয়ে উঠবে।
