রমজান মাসে ইফতার ও সেহরির সময়ে টকদই অনেকের প্রিয় খাবারের মধ্যে অন্যতম। এটি হালকা, সহজপাচ্য এবং সুস্বাদু হওয়ার পাশাপাশি পুষ্টিগুণে ভরপুর। বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রমাণ করেছে, নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে টকদই খেলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হতে পারে।
Table of Contents
টকদইয়ের পুষ্টিগুণ
টকদইতে রয়েছে ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, প্রোটিন এবং ভিটামিন বি ও ডি। এসব উপাদান শরীরের দৈনন্দিন পুষ্টি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত টকদই খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখা সম্ভব।
দ্য জার্নাল অব নিউট্রিশনে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত দই খাওয়ার অভ্যাস টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি প্রায় ২০–৪০ শতাংশ কমাতে সাহায্য করে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA) দইকে স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করে।
কিভাবে টকদই সুগার নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে
টকদই হলো ফার্মেন্টেড খাবার, যা প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ। উপকারী ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে, বিপাকক্রিয়া উন্নত করে এবং শরীরের প্রদাহ কমায়। নিয়মিত দই খেলে ইনসুলিন কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্থিতিশীল থাকে।
দইয়ের অন্যান্য স্বাস্থ্য উপকারিতা
গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI) কম: ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য নিরাপদ।
ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা: প্রোটিন দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে।
হাড় ও দাঁতের সুস্থতা: ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন শরীরকে শক্তিশালী রাখে।
বিপাকক্রিয়া সক্রিয় রাখা: হজম প্রক্রিয়া উন্নত হয়।
দিনে কতটা টকদই খাওয়া উচিত?
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, প্রতিদিন ১০০–২০০ গ্রাম (প্রায় এক কাপ) ঘরে তৈরি টকদই খাওয়া যায়। অতিরিক্ত মিষ্টি বা ফ্লেভারযুক্ত দই এড়িয়ে চলাই ভালো। টকদইয়ের সঙ্গে ফল, বাদাম বা বীজ মিশিয়ে খেলে পুষ্টিগুণ আরও বৃদ্ধি পায়। ল্যাকটোজ অসহিষ্ণু বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
পুষ্টি তথ্য (প্রতি ১০০ গ্রাম টকদই)
| উপাদান | পরিমাণ | স্বাস্থ্য উপকারিতা |
|---|---|---|
| ক্যালসিয়াম | 120 mg | হাড় ও দাঁত সুস্থ রাখে |
| পটাসিয়াম | 170 mg | রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক |
| ম্যাগনেসিয়াম | 11 mg | পেশি ও স্নায়ু কার্যক্রম বজায় রাখে |
| প্রোটিন | 3.5 g | পেট ভরা রাখে, ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা |
| ভিটামিন B12 | 0.5 µg | স্নায়ুতন্ত্র ও রক্তের স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজন |
| প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া | 10⁶–10⁸ CFU | অন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত করে, ইনসুলিন কার্যকারিতা বাড়ায় |
নিয়মিত ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে টকদই অন্তর্ভুক্ত করলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। ছোট একটি খাদ্যাভ্যাসও দীর্ঘমেয়াদে বড় উপকার আনতে পারে।
