রেশনিং পদ্ধতিতে আজ থেকে জ্বালানি তেল বিক্রি শুরু

বিশ্বব্যাপী চলমান জ্বালানি সংকট এবং আমদানিতে সাময়িক অনিশ্চয়তা বিবেচনায় নিয়ে দেশে দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আজ রবিবার (৮ মার্চ) থেকে নতুন রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রি শুরু হচ্ছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত গত শুক্রবার রাজধানীর পরীবাগ এলাকার একটি পেট্রোল পাম্প পরিদর্শন শেষে এই বিশেষ ব্যবস্থার ঘোষণা দেন। তিনি জানান, দেশের মজুদ পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে এবং আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের প্রবণতা রোধ করতেই এই কৃচ্ছ্রসাধন নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।

রেশনিং ব্যবস্থার প্রেক্ষাপট ও প্রয়োজনীয়তা

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বর্তমানে ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের প্রায় ৯৫ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে মাঝেমধ্যে আন্তর্জাতিক সরবরাহ চেইন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এমতাবস্থায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে তেলের মজুদ নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণার ফলে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের একটি হিড়িক লক্ষ করা গেছে। এই কৃত্রিম চাহিদা সামাল দিতে এবং ডিলারদের অতিরিক্ত তেল মজুদে লাগাম টানতে সরকার এই রেশনিং পদ্ধতি চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নতুন পদ্ধতিতে তেলের বরাদ্দ সীমা

সরকারের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, যানবাহনের ধরন ভেদে দৈনিক তেলের একটি নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। পেট্রোল পাম্পগুলোকে এই নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য লিখিত আদেশ জারি করা হয়েছে। নিচে বিভিন্ন যানবাহনের জন্য দৈনিক তেলের বরাদ্দের তালিকা প্রদান করা হলো:

যানবাহনের ধরনজ্বালানির প্রকারভেদদৈনিক সর্বোচ্চ বরাদ্দ
মোটরসাইকেলপেট্রোল / অকটেন০২ লিটার
ব্যক্তিগত গাড়ি (কার)পেট্রোল / অকটেন / ডিজেল১০ লিটার
এসইউভি (জিপ) ও মাইক্রোবাসডিজেল / অকটেন২০ – ২৫ লিটার
লোকাল বাস ও পিকআপডিজেল৭০ – ৮০ লিটার
দূরপাল্লার বাস ও ট্রাকডিজেল২০০ – ২২০ লিটার
কাভার্ড ভ্যান ও কনটেইনার ট্রাকডিজেল২০০ – ২২০ লিটার

মজুদ পরিস্থিতি ও সরকারি আশ্বাস

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সাধারণ গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে বলেছেন যে, দেশে বর্তমানে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল মজুদ রয়েছে। তবে আমদানিনির্ভর এই খাতে যাতে কোনোভাবেই ভবিষ্যতে বড় কোনো সংকটের সৃষ্টি না হয়, সেজন্যই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই রেশনিং পদ্ধতি চালু করা হলো। বিপিসি জানিয়েছে, ডিলাররা যেন ডিপো থেকে অস্বাভাবিক পরিমাণ তেল উত্তোলন করতে না পারে, সেজন্য কঠোর নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগের ফলে সাময়িকভাবে ব্যক্তিগত গাড়ি চালকদের কিছুটা সমস্যা হলেও গণপরিবহন এবং পণ্যবাহী ট্রাকের চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। সরকার আশা করছে, এই রেশনিং ব্যবস্থার মাধ্যমে তেলের অপচয় কমবে এবং বাজারে বিদ্যমান অস্থিরতা দ্রুত প্রশমিত হবে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।