চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার পুলিশ সদস্যদের মাদক ব্যবসার সাথে সরাসরি জড়িত থাকার তথ্য সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে। গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অভিযানে এসআই মিজানুর রহমান ৮ হাজার ইয়াবা বড়িসহ এবং কনস্টেবল মো. মহিবুর রহমান ১০ হাজার ইয়াবা বড়িসহ গ্রেপ্তার হয়েছেন। মাদক উদ্ধার ও গ্রেপ্তারের পরও মামলা করা হয় পুলিশের পরিচয় উল্লেখ না করে, যা পরে সংবাদ ও অনুসন্ধান রিপোর্টে আলোচিত হয়।
অভ্যন্তরীণ তদন্তে উঠে এসেছে, পুলিশ কর্মকর্তারা মাদক নেটওয়ার্কের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম শহিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। অভিযোগ আছে, মাদক ব্যবসার টাকায় তিনি পাহাড়তলীতে পাঁচতলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন এবং গ্রামে সম্পত্তি অর্জন করেছেন।
রেলওয়ে পুলিশের এসআই মো. দস্তগির হোসেনও মাদক ব্যবসার টাকায় কক্সবাজারে ‘সী শার্ক রিসোর্ট’ নামের আবাসিক হোটেল করেছেন। এছাড়া চন্দনাইশে ডুপ্লেক্স বাড়ি নির্মাণের অভিযোগও রয়েছে। তিনি বলেন, হোটেল শ্বশুরের নামে হলেও সেটি উপহার হিসেবে স্ত্রীকে দিয়েছেন।
চট্টগ্রাম রেলওয়ে পুলিশের সূত্র জানায়, ট্রেনে ইয়াবা পাচারের জন্য একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি হয়েছে, যেখানে পুলিশের অভ্যন্তরীণ সহযোগিতা রয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে মাদক বিক্রির টাকায় সম্পদ অর্জনের বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে।
রেলওয়ে পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মো. জিল্লুর রহমান বলেন, অভ্যন্তরীণ তদন্তে প্রমাণিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, যাদের সম্পত্তি বা জড়িত থাকার প্রমাণ আছে, তাদের চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানায় রাখা হবে না।
মাদক প্রতিরোধে রেলস্টেশনে স্ক্যানার বসানো হলেও জনবলের অভাবে তা পুরোপুরি কার্যকর করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ট্রেনে মাদক পাচার প্রতিরোধে চ্যালেঞ্জ এখনও রয়েছে।
