রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে অগ্নিকাণ্ড, ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণে এনেছে

পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দুপুর ১টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রকল্পের পেছনের দিকে রাখা কাঠের স্তূপে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়, যার ফলে শ্রমিকদের মধ্যে সাময়িক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

খবর পেয়ে রূপপুর গ্রীনসিটি ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের পাঁচটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ৪০ মিনিটের মধ্যে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনে। অগ্নিকাণ্ডে কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

রূপপুর গ্রীনসিটি ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন মাস্টার মো. আবুল হাশেম জানান, “প্রকল্প এলাকার পদ্মা নদীর পার্শ্ববর্তী অংশে কাঠের বড় স্তূপে হঠাৎ আগুন দেখা দেয়। কর্মরত শ্রমিকরা সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে একাধিক ইউনিট এসে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।”

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে আগুনের সঠিক উৎস শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। অগ্নিকাণ্ডের কারণ চূড়ান্তভাবে তদন্তের মাধ্যমে জানা যাবে। এছাড়া, প্রকল্প এলাকায় সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে এমন ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।

তথ্যবিবরণ
ঘটনা স্থানরূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, ঈশ্বরদী, পাবনা
ঘটনা সময়৬ নভেম্বর ২০২৫, দুপুর ১টা
অগ্নিকাণ্ডের উৎসকাঠের স্তূপ (প্রাথমিকভাবে)
আগুন নিয়ন্ত্রণে সময়প্রায় ৪০ মিনিট
ফায়ার সার্ভিস ইউনিট৫টি ইউনিট
ক্ষয়ক্ষতিকোনো প্রাণহানি বা বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়নি
নিরাপত্তা ব্যবস্থাসতর্কতা জোরদার, তদন্ত চলমান

প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানান, এ ধরনের ঘটনা নির্মাণস্থলে নিয়মিত ঘটে না, তবে কাঠের স্তূপে আগুনের সূত্রপাত প্রকল্পের নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে। তারা বলেন, ভবিষ্যতে অগ্নি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও আধুনিক অগ্নি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অগ্নিকাণ্ডে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এছাড়া, কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং ফায়ার সেফটি প্রটোকল কার্যকর হওয়ায় আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাংলাদেশের একটি বৃহৎ এনার্জি প্রকল্প। এ ধরনের ঘটনা প্রমাণ করে যে, নির্মাণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার যথাযথ সমন্বয় কতটা জরুরি। প্রকল্প কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার আরও শক্তিশালী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যাতে এমন দুর্ঘটনা আর না ঘটে।