রূপগঞ্জে ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘাতে খালেদা–তারেকের ছবি ভাঙচুর

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ছাত্রদলের দুই পক্ষের বিরোধ দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্ম দিচ্ছিল। অবশেষে সেই উত্তেজনা বুধবার–বৃহস্পতিবার সহিংসতায় রূপ নেয়। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া এই সংঘর্ষে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের এক অংশের বিরুদ্ধে। এ সময় ৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের কার্যালয়ও ভাঙচুর করা হয়, আহত হন অন্তত আটজন।

ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার বিকালে গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের হোড়গাঁও চেয়ারম্যানবাড়ি এলাকায়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সদস্য সাজ্জাদ মাওলা বিন মিজান ও রাকিব হাসানের অনুসারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। সাজ্জাদ বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী মনিরুজ্জামান মনিরের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত, অপরদিকে রাকিব ঘনিষ্ঠ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর।

বিরোধ নতুন মোড় নেয় বুধবার রাতে। সে রাতে ৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদল খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় একটি দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে। ছাত্রদল নেতা মাসুদুর রহমানসহ অনেক নেতাকর্মী এতে অংশ নেন। অভিযোগ রয়েছে, অনুষ্ঠান শেষে রাতেই রাকিবপক্ষ কার্যালয়ে এসে কাজী মনিরুজ্জামান মনিরের ছবি নামিয়ে রাখার নির্দেশ দেয় এবং কার্যালয় ছেড়ে দিতে বলে—যা দুই পক্ষের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেয়।

পরদিন বৃহস্পতিবার বিকেলে পরিস্থিতি সহিংসতায় পরিণত হয়। সাজ্জাদপক্ষের দাবি, রাকিব হাসান, শাহাবুদ্দিন, নজরুল, মোশারফ, বাবু ও আরিফ বকুলের নেতৃত্বে ৩৫–৪০ জন পিস্তল ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে কার্যালয়ে হামলা চালায়। এ সময় খালেদা জিয়া, তারেক রহমান এবং কাজী মনিরুজ্জামান মনিরের ছবি ভাঙচুর করা হয়। হামলা প্রতিহত করার চেষ্টা করলে সাজ্জাদ মাওলা বিন সিয়াম, জুবায়ের হোসেন, আব্দুল্লাহ, সায়েম, জুবায়ের শাহরিয়ার নাসিম ও গোলাম মাওলা নয়নসহ অন্তত আটজন মারাত্মক আহত হন। পরে তাদের স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে ভর্তি করা হয়।

এদিকে অভিযুক্ত রাকিব হাসান দাবি করেন, অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও রাজনৈতিকভাবে প্রণোদিত। তার ভাষ্য, ওই কার্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক কার্যকলাপ চলছিল, যা নিয়ে গ্রামবাসীর ক্ষোভ চরমে ওঠেছিল এবং এরই জেরে তারা ভাঙচুর চালায়।

ঘটনার পরপরই রূপগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, দুই পক্ষকে উত্তেজনা পরিহার করে শান্ত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।