ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির বহিষ্কৃত আন্তর্জাতিক–বিষয়ক সহসম্পাদক রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনের আগে কিছু কেন্দ্রে পরিকল্পিতভাবে ভোট কারচুপির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সরাইল উপজেলার কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে আগের রাতেই ভোট সম্পন্ন করে কেন্দ্র বন্ধ ও সিল করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি ভোটার ও স্থানীয় জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়া এখন এলাকার মানুষের নৈতিক দায়িত্ব।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সরাইল উপজেলা সদরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আলীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে এসব কথা বলেন রুমিন ফারহানা। কর্মী–সমর্থক ও স্থানীয় ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা আমার আত্মীয়, আমার ভাই। ভোটকেন্দ্র আপনাদেরই পাহারা দিতে হবে। কেউ যেন ভোটাধিকার কেড়ে নিতে না পারে, সেটাই আপনাদের দায়িত্ব।”
তিনি নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়ন নিয়ে একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেন। রুমিন ফারহানা বলেন, আল্লাহ যদি জনগণের ভোটে তাঁকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেন, তবে সরাইল ও আশুগঞ্জে পৌরসভা গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে এবং রাস্তাঘাট, স্কুল–কলেজ, মসজিদ ও মাদ্রাসার অবকাঠামো উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্যাস অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার যে অভিযোগ দীর্ঘদিনের, সেটির বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তিনি বলেন, “আমি যদি এই কাজগুলো করতে ব্যর্থ হই, পাঁচ বছর পর আপনারা আমাকে আর ভোট দেবেন না।”
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে উন্নয়ন কার্যক্রম চালানো সম্ভব কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে রুমিন ফারহানা বলেন, “স্বতন্ত্র এমপি হলেও মানুষের দাবি আদায়ে আমাদের শক্তি আছে। প্রয়োজনে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক আশুগঞ্জ থেকে বুধন্তি পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়ার সক্ষমতাও আমাদের রয়েছে।” তাঁর এই বক্তব্য উপস্থিত জনতার মধ্যে আলোচনার জন্ম দেয়।
আবেগঘন কণ্ঠে ভোটারদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, অসুস্থ মাকে ঢাকায় রেখে তিনি এলাকায় এসেছেন কেবল জনগণের ওপর ভরসা করে। দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে ঢাকা শহরের স্বাচ্ছন্দ্যের জীবন ছেড়ে তিনি সরাইল–আশুগঞ্জে ফিরেছেন মানুষের পাশে দাঁড়াতে। “১২ তারিখ পর্যন্ত আপনারাই আমার ভোটের আমানতকারী,”—বলেই তিনি ভোটের দায়িত্ব ভোটারদের হাতে তুলে দেন।
উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনে বিএনপি–জোটের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবকে জোটপ্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় গত ৩০ ডিসেম্বর রুমিন ফারহানাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। এই বহিষ্কারের পরও তিনি মাঠপর্যায়ে সক্রিয় প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
নিচে ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনসংক্রান্ত মূল তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| সংসদীয় আসন | ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ |
| অন্তর্ভুক্ত এলাকা | সরাইল, আশুগঞ্জ, বিজয়নগরের একাংশ |
| স্বতন্ত্র প্রার্থী | রুমিন ফারহানা |
| জোটপ্রার্থী | মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব |
| প্রধান অভিযোগ | আগের রাতে ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা |
| নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি | পৌরসভা, স্বাস্থ্যসেবা, অবকাঠামো উন্নয়ন |
এই বক্তব্য ও অভিযোগ ঘিরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনে নির্বাচনী উত্তাপ আরও বাড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় পর্যবেক্ষকেরা।
