সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের নিকটবর্তী আকাশসীমায় আরও তিনটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সন্দেহজনকভাবে উড়তে থাকা এই ড্রোনগুলো শনাক্ত হওয়ার পর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয় এবং দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সেগুলো ধ্বংস করা হয়। এর ফলে সম্ভাব্য একটি হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহর ও স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে। আকাশপথে কোনো অস্বাভাবিক গতিবিধি শনাক্ত হলেই তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক ঘটনায় ভূপাতিত তিনটি ড্রোন রিয়াদের আকাশে প্রবেশের চেষ্টা করছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেই রাজধানীর কূটনৈতিক এলাকায় বড় ধরনের আরেকটি ড্রোন হামলার প্রচেষ্টা প্রতিহত করার কথা জানিয়েছিল সৌদি কর্তৃপক্ষ। সেই ঘটনায় অন্তত পনেরোটি ড্রোন গুলি করে নামানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়। কূটনৈতিক এলাকায় বহু বিদেশি দূতাবাস, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক স্থাপনা অবস্থিত থাকায় নিরাপত্তা বাহিনী সেখানে বিশেষ সতর্ক অবস্থান নেয়।
কর্তৃপক্ষ জানায়, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সমন্বিত কার্যক্রমের ফলে দ্রুত সময়ের মধ্যে ড্রোনগুলো শনাক্ত করে ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং রাজধানীর স্বাভাবিক কার্যক্রমেও কোনো বিঘ্ন ঘটেনি বলে জানানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ড্রোন ব্যবহার করে হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তুলনামূলকভাবে সহজলভ্য প্রযুক্তি হওয়ায় ড্রোন এখন আধুনিক সংঘাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠেছে। ছোট আকারের এই উড়ন্ত যন্ত্রগুলো কখনো নজরদারি, আবার কখনো হামলার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাজধানী রিয়াদসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, সামরিক স্থাপনা, জ্বালানি কেন্দ্র এবং কূটনৈতিক অঞ্চলগুলোতে আকাশ নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে।
সাম্প্রতিক দুই ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচের সারণিতে উপস্থাপন করা হলো—
| ঘটনাস্থল | ভূপাতিত ড্রোনের সংখ্যা | সময় | ক্ষয়ক্ষতি |
|---|---|---|---|
| রিয়াদের কূটনৈতিক এলাকা | অন্তত পনেরোটি | প্রথম ঘটনা | কোনো হতাহতের খবর নেই |
| রিয়াদের নিকটবর্তী আকাশসীমা | তিনটি | কয়েক ঘণ্টা পর | কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই |
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী হওয়ায় সম্ভাব্য হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থার উন্নয়নও ভবিষ্যতে এই ধরনের হুমকি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও নাগরিকদের নিরাপত্তা রক্ষায় আকাশসীমা সুরক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। যে কোনো ধরনের হামলার প্রচেষ্টা প্রতিহত করতে প্রতিরক্ষা বাহিনী সর্বদা সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
