রাস্তায় দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন ৩, শিশুটি অবিশ্বাস্যভাবে বেঁচে গেল

মাদারীপুরে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় তিন নিহত

মাদারীপুরের তাঁতিবাড়ি এলাকায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল ১১.৩০টার দিকে একটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় এক অজ্ঞাত পরিচয়ের শিশু অপ্রত্যাশিতভাবে বেঁচে গেছেন। আহত একজন ভ্যানচালককে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বরিশালগামী একটি কাভার্ডভ্যান তাঁতিবাড়ি এলাকায় ব্রিজের ঢালে বিপরীতমুখী যাত্রীবাহী ব্যাটারি চালিত ভ্যানের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার তীব্রতায় ঘটনাস্থলেই দুইজন মারা যান, এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও একজনের মৃত্যু ঘটে। আহতদের মধ্যে একজন ভ্যানচালক রনি খানকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। স্থানীয়রা আহত শিশুটিকে উদ্ধার করে এবং তার অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল।

দুর্ঘটনার পর নিহতদের স্বজন ও স্থানীয়রা মহাসড়ক অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান। এতে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিস, হাইওয়ে পুলিশ ও মোস্তফাপুর হাইওয়ে থানার পুলিশের যৌথ উদ্যোগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং মহাসড়ক পুনরায় খোলা হয়।

মোস্তফাপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন আল রশিদ জানান, “রাজৈরের টেকেরহাট থেকে বরিশালের দিকে যাচ্ছিল কাভার্ডভ্যানটি। পথে সদর উপজেলার তাঁতিবাড়ি এলাকায় বিপরীতমুখী ব্যাটারি চালিত ভ্যানের সঙ্গে সংঘর্ষে তিনজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পরে কাভার্ডভ্যানটি পালিয়ে গেছে। দ্রুত শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নিহত ও আহতদের বিস্তারিত তথ্য নিম্নরূপ:

নামবয়সঠিকানাঅবস্থা
তাসলিমা বেগম৩৫খামারবাড়ি, ঘটমাঝি ইউনিয়ননিহত
কোহিনুর বেগম৪৫খামারবাড়ি, ঘটমাঝি ইউনিয়ননিহত
নয়ন হাওলাদারঅজানাপান্তাপাড়া, ডাসার উপজেলানিহত
রনি খান (ভ্যানচালক)অজানাতাঁতিবাড়ি, ঘটমাঝি ইউনিয়নগুরুতর আহত, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন
অজ্ঞাত শিশুঅজানাঅজানাবেঁচে গেছে

ওসি মামুন আল রশিদ আরও বলেন, “দক্ষিণাঞ্চলের ছয় জেলা এবং মহাসড়কের যাত্রীদের জন্য এই দুর্ঘটনা বড় ধরনের ভোগান্তি সৃষ্টি করেছে। ঘাতক কাভার্ডভ্যানটি দ্রুত শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে মহাসড়কের পরিস্থিতি স্বাভাবিক।”

দুর্ঘটনাটি মহাসড়কের নিরাপত্তা, গাড়িচালনার সতর্কতা ও যানজট নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছে। স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় সাধারণ যাত্রীরা স্বস্তি অনুভব করছেন।