ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় দিনিপ্রোপেত্রোভস্কে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় একটি বাসের যাত্রী অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও সাতজন। হামলাটি রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) ঘটেছে, এবং এতে যাত্রীদের মধ্যে বেশির ভাগই জ্বালানি খাতের কর্মী ছিলেন।
দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী ডেনিস শেমহাল রবিবার টেলিগ্রামে লেখেন, “আজ শত্রুরা দিনিপ্রো অঞ্চলে জ্বালানি খাতের কর্মীদের লক্ষ্য করে নিন্দনীয় হামলা চালিয়েছে। এই সন্ত্রাসী হামলায় ১২ জন নিহত হয়েছেন, আর সাতজন আহত হয়েছেন।”
স্থানীয় পুলিশ জানায়, হামলা তেরনিভস্কা শহরে ঘটেছে। জরুরি পরিষেবার একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, হামলার পর বাসটি সড়কের পাশে উল্টে গিয়ে পুড়ে গেছে।
জ্বালানি প্রতিষ্ঠান ডিটিই এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হামলায় হতাহতরা তাদের প্রতিষ্ঠানের কর্মী। হামলার সময় তারা সবাই কর্মস্থল থেকে বাসে ফিরছিলেন।
হামলার সঙ্গে সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর জাপোরিঝিয়া-তেও রাশিয়ার হামলার খবর পাওয়া গেছে। আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, জাপোরিঝিয়ার একটি মাতৃসদন ও একটি আবাসিক ভবনে হামলায় কমপক্ষে নয়জন আহত হয়েছেন।
উল্লেখযোগ্য যে, এই হামলার ঘটনা সামনে এসেছে এমন সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার দ্বিতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই আলোচনার সময়সূচি সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে আগামী বুধবার ও বৃহস্পতিবার। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রবিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিচের টেবিলে হামলার প্রাথমিক তথ্য সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| স্থান | আক্রান্তরা | নিহত | আহত | হামলার ধরন | মন্তব্য |
|---|---|---|---|---|---|
| তেরনিভস্কা, দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক | জ্বালানি খাতের কর্মী | 12 | 7 | ড্রোন হামলা | বাসে থাকা সবাই কর্মস্থল থেকে ফিরছিল |
| জাপোরিঝিয়া | সাধারণ নাগরিক | 0 | 9 | ক্ষেপণাস্ত্র হামলা | মাতৃসদন ও আবাসিক ভবন লক্ষ্যবস্তু |
উল্লেখ্য, চলতি বছরের মধ্যে ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। নিরাপত্তা ও জরুরি সেবাগুলোর কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, বসতি অঞ্চলে এই ধরনের হামলা নাগরিকদের জন্য বিরাট ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।
এই হামলা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এবং ত্রিপক্ষীয় আলোচনার প্রেক্ষাপটে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরণের সন্ত্রাসী হামলা আলোচনার আগে উত্তেজনা বৃদ্ধি করতে পারে এবং শান্তি উদ্যোগকে প্রভাবিত করতে পারে।
