রাশিয়ার এস-৪০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাকিস্তানি ক্ষেপণাস্ত্র থেকে দিল্লি রক্ষা করেছে

নয়াদিল্লি: রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দুই দিনের সরকারি সফরে শুক্রবার নয়াদিল্লি পৌঁছেছেন। এই সফরকে দুটি দেশের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। সফরের সময় কংগ্রেস নেতা শশী থারুর বিশেষ মন্তব্য করে ভারত ও রাশিয়ার দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের প্রশংসা করেছেন।

ভারতের গণমাধ্যম দ্য হিন্দু জানিয়েছে, থারুর মন্তব্যে তিনি বলেন, “রাশিয়া সবসময় ভারতের পাশে ছিল। এই সময়ে পুতিনের সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের সম্পর্ক টেকসই এবং জোরদার করা প্রয়োজন, বিশেষত বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে।” তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়ার বন্ধুত্ব প্রমাণিত হয়েছে।

থারুর উল্লেখ, “ভারত রাশিয়া থেকে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পেয়েছে। অপারেশন সিঁদুরের সময় রাশিয়ার এস-৪০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিল্লি এবং অন্যান্য শহরকে পাকিস্তানি ক্ষেপণাস্ত্র থেকে রক্ষা করেছে। এর ফলে দুই দেশের সম্পর্ক শুধু কূটনৈতিক নয়, নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও শক্তিশালী হয়েছে।”

তিনি আরও জোর দিয়ে বলেছেন যে, ভারতের যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক মস্কো-নয়াদিল্লির বন্ধুত্বে কোনো প্রভাব ফেলবে না। “ভারত নিজস্ব কৌশল অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনা করে, এবং রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্ব সবসময় মজবুত থাকবে,” থারুর মন্তব্যে বলা হয়েছে।

এই সফরে পুতিনের মূল বৈঠক ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকের সময় প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, শক্তি ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। এছাড়া দুই দেশের কূটনৈতিক কর্মকর্তারা দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান চুক্তি ও নতুন সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো নিয়ে আলোচনা করবেন।

পুতিনের নয়াদিল্লি আগমনের সময় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডও পালন করা হয়েছে। বৈঠকের আগে তিনি মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এছাড়া নিরাপত্তার কারণে নয়াদিল্লির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পুতিনের এই সফর ভারত-রাশিয়া সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে। বিশেষ করে কৌশলগত সেক্টর, যেমন প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও উচ্চ প্রযুক্তি ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ইতিমধ্যেই ৭০ বছরেরও বেশি পুরনো, যা Cold War পরবর্তী সময়েও শক্তিশালীভাবে বজায় রয়েছে।

পুতিন সফরের আগে মস্কো এবং নয়াদিল্লি একাধিক যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছে, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে দুই দেশ ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় করবে। এছাড়া এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের ক্ষেত্রগুলো নতুনভাবে নির্ধারণ করা হবে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের নয়াদিল্লি সফর কেবল কূটনৈতিক সম্পর্ক নয়, দুই দেশের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হচ্ছে।