নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চলে মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে ডাকাতদের গুলিতে এক তরুণ জেলের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার গভীর রাতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর শনিবার বিকেলে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি স্থানীয় জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে এবং নদীপথে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
নিহত জেলের নাম মো. হেদায়েতুল্লাহ (২২)। তিনি রায়পুরা উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের ফকিরেরচর গ্রামের বাসিন্দা। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জীবিকার তাগিদে প্রতিদিনের মতো শুক্রবার রাতেও তিনি তাঁর চাচা চানু মিয়ার সঙ্গে মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে যান।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত প্রায় ১২টার দিকে একটি স্পিডবোট তাঁদের মাছ ধরার নৌকার কাছে এসে থামে। স্পিডবোটে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তাঁদের দিকে এগিয়ে আসে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে হেদায়েতুল্লাহ ও তাঁর চাচা প্রাণ বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ দেন। এ সময় ডাকাতরা তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়।
চানু মিয়া সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও হেদায়েতুল্লাহ আর ফিরে আসেননি। পরে স্থানীয় জেলেরা ও গ্রামবাসী রাতেই তাঁকে খুঁজতে চেষ্টা করলেও অন্ধকার ও নদীর স্রোতের কারণে তাঁকে পাওয়া যায়নি।
শনিবার সকাল থেকে স্থানীয় লোকজন নৌকা নিয়ে মেঘনা নদীর বিভিন্ন এলাকায় নিখোঁজ জেলেকে খুঁজতে শুরু করেন। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি নদীতে তাঁর মরদেহ ভাসতে দেখা যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহটি উদ্ধার করে তীরে আনা হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে রায়পুরা থানার অধীন মির্জারচর নৌ ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহতের চাচা চানু মিয়া ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ডাকাতদের আকস্মিক হামলায় তাঁরা সম্পূর্ণ দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। প্রাণ বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার পরও ডাকাতরা তাঁদের দিকে গুলি চালায়। তিনি জানান, স্পিডবোটে অন্তত পাঁচজন ডাকাত ছিল। তাঁর দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
স্থানীয় ইউপি সদস্য জালাল উদ্দিন জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর দেখা যায় ডাকাতদের ছোড়া গুলি হেদায়েতুল্লাহর বাঁ কানে, ঘাড়ে ও গালে লেগেছে। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, হেদায়েতুল্লাহ একটি দরিদ্র পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য ছিলেন। রাতভর নদীতে মাছ ধরে তা বিক্রি করেই তিনি পরিবার চালাতেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মেঘনা নদীর এই অঞ্চলে মাঝেমধ্যেই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে গভীর রাতে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেরা প্রায়ই ডাকাতদের টার্গেটে পরিণত হন।
ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নিহতের নাম | মো. হেদায়েতুল্লাহ (২২) |
| বাড়ি | ফকিরেরচর গ্রাম, শ্রীনগর ইউনিয়ন, রায়পুরা |
| ঘটনা ঘটার সময় | শুক্রবার রাত প্রায় ১২টা |
| লাশ উদ্ধার | শনিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটা |
| হামলাকারীর সংখ্যা | আনুমানিক ৫ জন |
| ব্যবহৃত যান | স্পিডবোট |
| আঘাতের স্থান | বাঁ কান, ঘাড় ও গাল |
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মজিবর রহমান জানান, নিহত জেলের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে নৌ পুলিশ।
স্থানীয় জেলেরা বলছেন, নদীতে নিরাপত্তা জোরদার না করা হলে এমন ঘটনা আরও বাড়তে পারে। তাই নদীপথে টহল বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
