রাজধানীর রামপুরা এলাকায় ২৪ জুলাই ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণ আমির হোসেনকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনা এবং একই এলাকায় আরও দুজনকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আগামী ৪ মার্চ ঘোষণা করা হবে। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম।
ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, ১৫ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আনুষ্ঠানিক আদেশ দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, ঘটনাটি ছিল রাষ্ট্রীয় শক্তির ‘অতিরিক্ত ও উদ্দেশ্যমূলক বলপ্রয়োগ’-এর একটি গুরুতর উদাহরণ, যা মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। আসামিপক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
আসামিদের অবস্থা
মামলায় মোট পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে চারজন পলাতক এবং একজন গ্রেফতার।
| ক্র. | নাম | পদবি (ঘটনাকালীন) | বর্তমান অবস্থা |
|---|---|---|---|
| ১ | হাবিবুর রহমান | সাবেক কমিশনার, ডিএমপি | পলাতক |
| ২ | রাশেদুল ইসলাম | সাবেক এডিসি, খিলগাঁও জোন | পলাতক |
| ৩ | মশিউর রহমান | সাবেক ওসি, রামপুরা থানা | পলাতক |
| ৪ | তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া | সাবেক এসআই | পলাতক |
| ৫ | চঞ্চল চন্দ্র সরকার | সাবেক এএসআই | গ্রেফতার, কারাগারে |
রাষ্ট্রপক্ষের বিবরণ অনুযায়ী, ১৯ জুলাই ২০২৪ জুমার নামাজ শেষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে বাসায় ফিরছিলেন আমির হোসেন। রামপুরা এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলাকালে তিনি পড়ে যান এবং প্রাণ বাঁচাতে একটি নির্মাণাধীন ভবনের চতুর্থ তলায় আশ্রয় নেন। অভিযোগ অনুসারে, পুলিশ সদস্যরা তাঁকে অনুসরণ করে সেখানে পৌঁছে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে নিচে লাফ দিতে চাপ দেন। আতঙ্কে আমির রড ধরে ঝুলে পড়েন।
তৃতীয় তলা থেকে ছয় রাউন্ড গুলি চালানো হয়; গুলিগুলো তাঁর দুই পায়ে লাগে। পুলিশ সরে গেলে গুরুতর রক্তক্ষরণ অবস্থায় তিনি তৃতীয় তলায় পড়ে থাকেন। প্রায় তিন ঘণ্টা পর এক শিক্ষার্থী ও দুজন চিকিৎসকের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। দীর্ঘ চিকিৎসার পর তিনি প্রাণে বেঁচে যান।
একই দিনে ঘটনাস্থলের সামনে আরও দুজনকে হত্যার অভিযোগও মামলায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তদন্ত নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এসব ছিল একই ধারাবাহিক অভিযানের অংশ।
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ মামলার রায় ভবিষ্যতে আন্দোলন দমনে রাষ্ট্রীয় বলপ্রয়োগের সীমা ও দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করবে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোও রায়ের দিকে নজর রাখছে, কারণ এটি রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যবহারের নৈতিক ও আইনি মানদণ্ড নিয়ে নতুন বিতর্ক উসকে দিতে পারে।
