রামগতির খালে আট ড্রাম ডিজেল উদ্ধার

লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলায় একটি খাল থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় আটটি ড্রাম ভর্তি বিপুল পরিমাণ ডিজেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাতে উপজেলার আলেকজান্ডার মাছঘাট সংলগ্ন একটি খাল থেকে এ জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ডিজেলের পরিমাণ আনুমানিক প্রায় এক হাজার তিনশ লিটার বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং এর পেছনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রামগতি থানা পুলিশের একটি দল ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় খালের পানির নিচে প্লাস্টিকের বড় আকারের ড্রামগুলো শনাক্ত করা হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় একে একে আটটি ড্রাম উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি ড্রামের ভেতর দীর্ঘ সময় ধরে সংরক্ষিত অবস্থায় ডিজেল পাওয়া যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। পানির নিচে দীর্ঘ সময় পড়ে থাকায় কিছু ড্রামের বাহ্যিক অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ভেতরের জ্বালানি অক্ষত ছিল।

উদ্ধারের পর ড্রামগুলো থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেগুলোর নমুনা পরীক্ষা ও প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শুরু করে পুলিশ। জ্বালানি তেলের উৎস, সংরক্ষণের উদ্দেশ্য এবং সম্ভাব্য পরিবহন রুট সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহে কাজ চলছে।

ঘটনার সারসংক্ষেপ নিচে উপস্থাপন করা হলো—

বিষয়বিবরণ
স্থানআলেকজান্ডার মাছঘাট সংলগ্ন খাল
উপজেলারামগতি
জেলালক্ষ্মীপুর
উদ্ধারকৃত ড্রাম৮টি
আনুমানিক জ্বালানিপ্রায় ১,৩০০ লিটার ডিজেল
অভিযানের সময়মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাত
অভিযানকারী সংস্থারামগতি থানা পুলিশ

রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কোনো চক্র অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ ডিজেল সংগ্রহ করে তা পাচার বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে খালের পানির নিচে লুকিয়ে রেখেছিল। তবে এই তেলের প্রকৃত উৎস এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলের আশপাশের এলাকার তথ্য সংগ্রহ, স্থানীয় বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং সম্ভাব্য নৌপথ ব্যবহার সংক্রান্ত বিষয়গুলো গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আলেকজান্ডার মাছঘাট এলাকা নদী ও খালঘেঁষা হওয়ায় এখানে প্রায়ই নৌপথে পণ্য পরিবহন হয়ে থাকে। তবে পানির নিচে এভাবে বড় পরিমাণ জ্বালানি তেল মজুত পাওয়া যাওয়ায় তারা বিস্মিত হয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, এটি পরিকল্পিতভাবে দীর্ঘদিন ধরে গোপনে রাখা হয়েছিল।

পুলিশ প্রশাসনের মতে, জ্বালানি তেলের উৎস শনাক্ত করা গেলে পুরো চক্রটি উদঘাটন করা সম্ভব হবে। ঘটনাটি শুধু স্থানীয় নয়, বরং জ্বালানি নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। তদন্ত শেষে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।