বার্সেলোনার ব্রাজিলিয়ান তারকা রাফিনিয়া আবারও প্রমাণ করলেন কেন তিনি কাতালান ক্লাবটির সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারদের একজন। আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ম্যাচের আগেই প্রতিপক্ষ কোচ দিয়েগো পাবলো সিমিওনে তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন। আর মাঠে নামার পর রাফিনিয়া যেন সেই প্রশংসার মান রাখতেই পুরো ম্যাচজুড়ে আগুনে পারফরম্যান্স উপহার দিলেন। গোল করলেন, একের পর এক সুযোগ তৈরি করলেন এবং অবদান রাখলেন বার্সেলোনার ৩-১ গোলের দাপুটে জয়ে।
ম্যাচের শুরু থেকেই বার্সেলোনার আক্রমণভাগের মূল চালিকাশক্তি ছিলেন রাফিনিয়া। ডান প্রান্ত থেকে তার গতিময় দৌড়, বল নিয়ন্ত্রণ এবং ভেতরে ঢুকে পড়ার প্রবণতা আতলেতিকোর রক্ষণকে বারবার অস্বস্তিতে ফেলেছে। বার্সেলোনা যখন পিছিয়ে পড়ে চাপে ছিল, ঠিক তখনই রাফিনিয়ার গোল দলকে সমতায় ফেরায়। সেই গোল কেবল স্কোরলাইনই বদলায়নি, বদলে দিয়েছে ম্যাচের গতি ও ছন্দও। এরপর আত্মবিশ্বাসে ভর করে বার্সেলোনা ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলের গুরুত্বপূর্ণ জয় নিশ্চিত করে।
রাফিনিয়ার পারফরম্যান্সের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল তার বহুমুখিতা। তিনি শুধু উইঙ্গার হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; প্রয়োজনে মাঝমাঠে নেমে খেলেছেন, আক্রমণের মাঝখানে গিয়ে স্ট্রাইকারের ভূমিকাও পালন করেছেন, আবার রক্ষণে নেমে প্রেসিং করে দলকে সহায়তা করেছেন। তার টানা দৌড়, বল ছাড়া মুভমেন্ট এবং আক্রমণ শুরুর দক্ষতা পুরো ম্যাচজুড়েই বার্সেলোনাকে বাড়তি সুবিধা দিয়েছে। আধুনিক ফুটবলে একজন খেলোয়াড়ের যে পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও কৌশলগত বুদ্ধিমত্তা প্রয়োজন, রাফিনিয়া যেন তারই বাস্তব উদাহরণ।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে দিয়েগো পাবলো সিমিওনে কোনো ধরনের দ্বিধা ছাড়াই রাফিনিয়ার ভূয়সী প্রশংসা করেন। আর্জেন্টাইন কোচ বলেন, “রাফিনিয়া অবিশ্বাস্য এক ফুটবলার। সে মাঠের প্রায় সব জায়গায় খেলতে পারে—উইঙ্গার হিসেবে, মিডফিল্ডে, স্ট্রাইকার হিসেবে, এমনকি প্রয়োজনে উইং-ব্যাক হিসেবেও।” তিনি আরও যোগ করেন, “সে গোল করতে পারে, সুযোগ তৈরি করতে পারে, টানা দৌড়াতে পারে এবং প্রেসিংয়ের মাধ্যমেও দলের জন্য কাজ করে। সবদিক থেকেই সে আধুনিক ফুটবলের জন্য আদর্শ একজন খেলোয়াড়।”
এই প্রশংসার পর সিমিওনে ছুড়ে দেন আরও বড় এক প্রশ্ন—রাফিনিয়া ব্যালন ডি’অর জিততে পারেননি কীভাবে? তিনি বলেন, “আমি সত্যিই বুঝতে পারি না। সবাই তাদের পছন্দ অনুযায়ী ভোট দিতে পারে, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু যদি আমার ভোট থাকত, আমি চোখ বন্ধ করে রাফিনিয়াকেই দিতাম।”
চলতি বছরে ব্যালন ডি’অর জিতেছেন পিএসজির উসমান দেম্বেলে, আর দ্বিতীয় হয়েছেন বার্সেলোনার তরুণ বিস্ময় লামিন ইয়ামাল। রাফিনিয়া শেষ পর্যন্ত পঞ্চম স্থানে থেকে ব্যক্তিগত এই স্বীকৃতি হাতছাড়া করেন। তবে মাঠের পারফরম্যান্সে তিনি বারবার দেখিয়ে দিচ্ছেন, পুরস্কার না পেলেও দলের জন্য তার গুরুত্ব কোনো অংশে কম নয়। এমন ধারাবাহিক পারফরম্যান্স অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে বড় স্বীকৃতি তার হাতছাড়া হবে না—এমনটাই বিশ্বাস করছেন ফুটবলবিশ্লেষক ও সমর্থকরা।
