ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলায় রবিবার (৩০ নভেম্বর) সকালে একটি মারাত্মক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মাহবুব আলম (৪০), একজন ইউনিয়ন সমাজসেবা কর্মী, নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় আরও একজন যাত্রী আহত হয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, নিহত মাহবুব আলম সহকর্মী খাইরুল ইসলামকে নিয়ে অফিসের উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন। পথে একটি গাড়িকে ওভারটেক করার সময় মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তারা সড়কে ছিটকে পড়েন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি কাভার্ড ভ্যান তাদের চাপা দেয়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতলে নিয়ে যান। দায়িত্বরত চিকিৎসক মাহবুব আলমকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত খাইরুল ইসলামকে গুরুতর অবস্থায় দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার চিকিৎসা চলমান।
রাণীশংকৈল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কমলেশ জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাভার্ড ভ্যানটি জব্দ করা হয়েছে, তবে চালক এখনও পলাতক রয়েছেন। তিনি বলেন, “ঘটনার আইনানুগ তদন্ত চলছে। আমরা দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং অপরাধীকে শনাক্ত করার চেষ্টা করছি।”
দুর্ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য নিচের টেবিলে দেওয়া হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| স্থান | খুটিয়াটুলি, রাণীশংকৈল, ঠাকুরগাঁও |
| সময় | রবিবার, ৩০ নভেম্বর, সকাল |
| নিহত | মাহবুব আলম (৪০), ইউনিয়ন সমাজসেবা কর্মী |
| আহত | ১ (সহকর্মী খাইরুল ইসলাম) |
| দুর্ঘটনার ধরন | মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারানো ও কাভার্ড ভ্যানের চাপা |
| দায়িত্বরত পদক্ষেপ | কাভার্ড ভ্যান জব্দ, চালক পলাতক, তদন্ত চলমান |
স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ জনগণকে সতর্কভাবে চলাচল করার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালনার সময় গতি নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ ও সতর্কতার সঙ্গে যানবাহন পরিচালনার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, দেশের গ্রামীণ ও অর্ধ-শহুরে সড়কগুলোতে এই ধরনের দুর্ঘটনা সাধারণ। সাধারণ কারণে দুর্ঘটনা ঘটে—অতিরিক্ত গতি, ওভারটেকিং, অসতর্কতা এবং সড়ক বা যানবাহনের খারাপ অবস্থা। তাই দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি ও ট্রাফিক আইন মেনে চলা অপরিহার্য।
এছাড়াও, স্থানীয় স্কুল, বাজার ও অফিস চলাচলের সময় প্রশাসন অতিরিক্ত পুলিশি টহল ও সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এই ধরনের পদক্ষেপ জনসাধারণকে সচেতন রাখার পাশাপাশি দুর্ঘটনার সংখ্যা কমাতে সাহায্য করে।
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বিশেষজ্ঞরা সুপারিশ করেছেন—
সর্বদা হেলমেট ব্যবহার করা।
নির্ধারিত গতিসীমার মধ্যে গাড়ি চালানো।
ওভারটেক করার সময় সতর্ক থাকা।
যানবাহনের নিয়মিত মেরামত ও অবস্থা পরীক্ষা করা।
রাস্তায় অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি এড়িয়ে চলা।
ঠাকুরগাঁওয়ের এই দুর্ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, নিরাপদ চলাচল ও ট্রাফিক সচেতনতা কেবল ব্যক্তি নয়, সামগ্রিক জননিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
