রাজশাহীতে বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব শহরের জ্বালানি সরবরাহকে তীব্রভাবে ব্যাহত করেছে। সোমবার সকাল থেকে নগরীর অধিকাংশ পেট্রল পাম্পে পেট্রল ও অকটেন বিক্রি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ, পরিবহন ব্যবসায়ী এবং যানবাহন চালকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে শহরের পাম্পগুলোর নিরাপত্তা ও বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের জন্য পাম্প মালিক সমিতি সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাব দিয়েছে।
রাজশাহী জেলা পেট্রল পাম্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান শিমুল জানান, “পাম্পগুলোর পূর্বের মজুদ গত রোববার শেষ হয়ে গেছে। আজ থেকে আর কোনো পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের ভিড় বেড়ে গেছে।” তিনি আরও বলেন, বাঘাবাড়ি ডিপোতে যে লরি পৌঁছেছে, তাতে ১৩ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার মধ্যে মাত্র তিন হাজার লিটার তেল পাওয়া যাচ্ছে। পরিবেশকদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাতের মধ্যে তেল পৌঁছালে মঙ্গলবার থেকে বিক্রি শুরু হবে।
পাম্প মালিক সমিতি সতর্ক করেছেন, তেল বিক্রি শুরু হলে গ্রাহকদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। “পুলিশ দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এজন্য জেলা প্রশাসককে অনুরোধ করেছি, পাম্পগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হোক,” বলেন সমিতির কর্মকর্তারা।
সোমবার সকাল থেকেই নগরীর বিভিন্ন পাম্পে দীর্ঘ লাইনের দৃশ্য লক্ষ্য করা গেছে। সাহেব বাজার, সাগরপাড়া, শিরোইল, কোর্ট এলাকা ও তালাইমারীর পাম্পগুলোতে শত শত মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার এবং গণপরিবহন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও অধিকাংশ গ্রাহক তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
নগরীর পাম্প পরিস্থিতি সংক্ষেপে নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো—
| এলাকা | পাম্পের অবস্থা | বিক্রির সীমাবদ্ধতা | লক্ষ্যভুক্ত যানবাহন |
|---|---|---|---|
| সাহেব বাজার | বন্ধ | বিক্রি নেই | মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার |
| সাগরপাড়া | সীমিত বিক্রি | ২৫–৩০% চাহিদা মিটছে | গণপরিবহন, প্রাইভেটকার |
| শিরোইল | বন্ধ | বিক্রি নেই | মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার |
| কোর্ট এলাকা | সীমিত বিক্রি | চাহিদার তুলনায় কম | গণপরিবহন, প্রাইভেটকার |
| তালাইমারী | বন্ধ | বিক্রি নেই | মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার |
পুঠিয়া থেকে আসা মোটরসাইকেল চালক রবিউল ইসলাম বলেন, “সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, কিন্তু তেল পাইনি। এর ফলে দৈনন্দিন কাজ ও আয় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে হবে।” পবা থেকে আসা সাখাওয়াত হোসেন জানান, “পেট্রলের খোঁজে এক পাম্প থেকে আরেক পাম্প ঘুরে ঘুরে ট্যাঙ্কি খালি হয়ে গেছে। এখন বাড়ি ফেরার উপায়ও নেই।”
জ্বালানি সংকটের কারণে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে, অনেক যানবাহন রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকায় পরিবহন ব্যবস্থাও বিঘ্নিত হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাবে তেল সরবরাহে ব্যাঘাত আরও দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। এজন্য পাম্পগুলোর নিরাপত্তা ও বিক্রয় প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখার জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েন জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রশাসন ও পরিবেশকরা রাতের মধ্যেই তেল পৌঁছে দিয়ে নাগরিক ও পরিবহন ব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছেন। এই পদক্ষেপ দ্রুত কার্যকর হলে শহরে তেল সংকট এবং যানজট লাঘব হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
