রাজশাহীতে জ্বালানি নজরদারি জোরদার

রাজশাহীতে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ও সীমান্তপথে পাচার রোধে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী। পার্শ্ববর্তী দেশের তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় সীমান্ত এলাকায় পাচারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজশাহীর গুরুত্বপূর্ণ তিনটি তেল ডিপো—পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল ডিপোতে তিন প্লাটুন সীমান্তরক্ষী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহী রেলস্টেশন সংলগ্ন শিরোইল কলোনির যমুনা অয়েল ডিপোর সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান রাজশাহী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রিয়াজ শাহরিয়ার। তিনি বলেন, সরকার জ্বালানি তেলে ভর্তুকি প্রদান করায় দেশের বাজারে এর দাম তুলনামূলকভাবে কম থাকে। এই মূল্য পার্থক্যই অনেক সময় অসাধু চক্রকে সীমান্তপথে পাচারের দিকে উৎসাহিত করে।

তিনি আরও জানান, সীমান্তের আট কিলোমিটার অভ্যন্তর পর্যন্ত এলাকায় সরাসরি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এর বাইরে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছে। সীমান্তবর্তী বিওপি (বর্ডার আউটপোস্ট) সমূহকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে এবং নৌপথসহ বিভিন্ন সম্ভাব্য রুটে নিয়মিত টহল কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হয়েছে।

তেল পরিবহনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ট্রাক ট্যাংকারে পরিবহনকৃত জ্বালানির পরিমাণ কঠোরভাবে যাচাই করা হচ্ছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলোতে চেকপোস্ট বসিয়ে নিয়মিত তল্লাশি চালানো হচ্ছে, যাতে কোনোভাবেই ব্যারেল বা জারিকেনে জ্বালানি পাচার না হতে পারে।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে বিভিন্ন পর্যায়ে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত শতাধিক টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক যানবাহনে তল্লাশি চালানো হয়েছে, যাতে অবৈধ পরিবহন বা মজুত শনাক্ত করা যায়।

নিচে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের একটি সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো—

কার্যক্রমের ধরনসংখ্যা
বিশেষ টহল১৯২টি
ভ্রাম্যমাণ চেকপোস্ট২২৮টি
যানবাহন তল্লাশিপ্রায় ২,৫০০টি
নৌপথে স্পিডবোট টহল৪৮টি
মোতায়েনকৃত প্লাটুন৩টি

অধিনায়ক রিয়াজ শাহরিয়ার বলেন, সীমান্ত এলাকায় জ্বালানি তেল পাচার প্রতিরোধে প্রযুক্তিগত নজরদারি, নিয়মিত অভিযান এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয় আরও জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা রক্ষায় এ ধরনের পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিজিবির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা জানান, ভবিষ্যতে পরিস্থিতি অনুযায়ী নজরদারি আরও বাড়ানো হবে এবং পাচার প্রতিরোধে শূন্য সহনশীল নীতি অনুসরণ করা হবে।