রাজবাড়ীতে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, দুই যুবক গ্রেফতার

রাজবাড়ীর পাংশায় এক ২২ বছর বয়সী তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত দুই যুবককে পাংশা থানা পুলিশ গ্রেফতার করেছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা মামলায় বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে তাদের আটক করা হয়। পাংশা মডেল থানার ওসি শেখ মঈনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেফতারকৃতদের পরিচয়

নামপিতার নামবয়সগ্রামের নামপূর্বের মামলা সংখ্যা
আকাশ মন্ডলমোগবুল মন্ডল২৯বাগলী, সরিষা ইউনিয়ন৬টি মামলা
জামাল মন্ডলআরশেদ মন্ডল২২বাগলী, সরিষা ইউনিয়ন৪টি মামলা (অস্ত্র ও ডাকাতিসহ)

ওসি শেখ মঈনুল ইসলাম জানান, গত শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) পাংশা থানায় ৯(৩) ধারা অনুযায়ী মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তরা ৩ মার্চ রাতে ধামরাইয়ের ইসলামপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এই অভিযান পরিচালনা করেন পাংশা থানার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল গণি। তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়ার জন্য রাজবাড়ীর আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তরুণী প্রায় সাত মাস আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টিকটকের মাধ্যমে সজল নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচিত হন। সজলের নির্দেশে ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার দিকে ময়মনসিংহের নান্দাইল থেকে পাংশার বহলাডাঙ্গা গ্রামে যান। সজলকে না পেয়ে আকাশ ও জামাল মন্ডল তাঁকে দেখতে পান।

পরিচয়ের পর তারা মিলিতভাবে তরুণীকে বিয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে। এরপর তার কাছ থেকে নগদ ১০,০০০ টাকা এবং স্বর্ণের কানের দুল ছিনিয়ে নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

ওসি আরও জানান, আকাশ ও জামাল মন্ডলের বিরুদ্ধে আগেও বিভিন্ন ধরনের মামলা রয়েছে। গ্রেফতারের পর তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং আরও তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও পুলিশ সতর্কতা

স্থানীয়রা এই ঘটনায় গভীর শোক ও আতঙ্ক প্রকাশ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, নারীর নিরাপত্তা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য তারা তৎপর। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এই ঘটনার মাধ্যমে স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা ও সচেতনতার ওপর গুরুত্ব আরোপের প্রয়োজনীয়তা পুনরায়浮ে এসেছে। মামলাটি বর্তমানে রাজবাড়ী আদালতের তত্ত্বাবধানে, এবং তদন্ত কর্মকর্তারা অভিযোগের সকল দিক খতিয়ে দেখছেন।

এই ঘটনায় স্থানীয় কমিউনিটি ও প্রশাসনের তৎপরতা প্রদর্শন করে সমাজে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্ব স্পষ্ট হয়েছে।