নরসিংদীকেন্দ্রিক ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ঢাকা

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫.৭ এবং এর উৎপত্তিস্থল নরসিংদী জেলার মাধবদী এলাকা। ঢাকার কেন্দ্র থেকে ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের দূরত্ব মাত্র ১৩ কিলোমিটার হওয়ায় রাজধানীতে কম্পনের তীব্রতা তুলনামূলকভাবে বেশি অনুভূত হয়।

শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৮ মিনিট থেকে ১০টা ৩৯ মিনিট পর্যন্ত প্রায় এক মিনিট সময় ধরে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এ সময় ঢাকার পাশাপাশি আশপাশের জেলা ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও কম্পন টের পাওয়া যায়। অনেক মানুষ হঠাৎ করে ভবন কেঁপে উঠতে দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং নিরাপত্তার জন্য খোলা জায়গায় বেরিয়ে আসেন।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প। প্রাথমিকভাবে কোথাও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ঢাকার খুব কাছাকাছি হওয়ায় জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প বড় কোনো ভূমিকম্পের পূর্বাভাস নয়, তবে এটি ভূকম্পনপ্রবণ অঞ্চলে বসবাসের ঝুঁকির বিষয়টি আবারও স্মরণ করিয়ে দেয়।

ভূতাত্ত্বিকদের মতে, বাংলাদেশ টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের কাছে অবস্থিত হওয়ায় মাঝেমধ্যে এ ধরনের ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি হওয়ায় ভূমিকম্প হলে ঝুঁকির মাত্রাও বেড়ে যায়। এ কারণে ভবন নির্মাণে ভূমিকম্প সহনশীল নকশা অনুসরণ এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভূমিকম্পের সময় করণীয় বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন—কম্পন অনুভূত হলে দ্রুত খোলা জায়গায় চলে যাওয়া, ভারী আসবাবের নিচে আশ্রয় নেওয়া এবং লিফট ব্যবহার না করা। ভূমিকম্প পরবর্তী সময়ে ভবনে ফাটল বা ক্ষয়ক্ষতি দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোও জরুরি।

সামগ্রিকভাবে, বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না হলেও এই ভূমিকম্প রাজধানীসহ দেশের মানুষের মধ্যে সতর্কতা ও প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এনে দিয়েছে।


জিলাইভ/টিএসএন