রাজধানীর ফিলিং স্টেশনে ধৈর্যের বড় পরীক্ষা

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সোমবারও জ্বালানি তেল কিনতে দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে চালকদের। তেল সরবরাহে অনিশ্চয়তার কারণে অনেক ফিলিং স্টেশনে বিক্রি বন্ধ থাকলেও, চালকেরা আশায় লাইনে রয়েছেন। কিছু পাম্পে সারি এক কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ হয়েছে, যেখানে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।

সকালে মিরপুর, কল্যাণপুর, মোহাম্মদপুর, বিজয়সরণি ও কালশীর ৯টি ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করা হলে দেখা যায়, ৩টি স্টেশনে জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধ, একটিতে কেবল ডিজেল এবং আরেকটিতে শুধু অকটেন বিক্রি করা হচ্ছে। বাকি চারটিতে সীমিত পরিমাণে ডিজেল ও অকটেন বিক্রি করা হচ্ছে। যেসব পাম্পে বিক্রি বন্ধ, সেখানে উপস্থিত চালকেরা বলেন, “গাড়ি চালিয়ে অন্য পাম্পে যাওয়ার উপায় নেই। তেল শেষ, তাই যে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, সেখানেই অপেক্ষা করতে হবে।”

মিরপুর-২ নম্বর স্যাম অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড পাম্পের সামনে দেখা গেছে, প্রাইভেট গাড়ি ও মোটরসাইকেলের সারি প্রায় ৩০০ মিটার আগে থেকে শুরু। পাম্পের ভেতরে ক্যাশিয়ার জানালেন, গতকাল বিকেল সাড়ে চার হাজার লিটার অকটেন সরবরাহ পেয়েছিলেন। রাত ১০টার মধ্যে বিক্রি শেষ হয়ে যাওয়ায় পাম্প বন্ধ রাখা হয়েছে। নতুন সরবরাহ না আসা পর্যন্ত বিক্রি শুরু করা সম্ভব নয়।

বিজয়সরণি এলাকায় ট্রাস্ট পাম্পের সামনে দেখা গেছে, প্রাইভেট গাড়ির সারি সোয়া এক কিলোমিটার এবং মোটরসাইকেলের সারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পর্যন্ত বিস্তৃত। সেখানে একজন চালক জানিয়েছেন, সকাল নয়টার দিকে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন, আর দেড় ঘণ্টা অপেক্ষার পর গাড়ি সামনের দিকে এগিয়েছে।

কল্যাণপুর ও শেওড়াপাড়া অঞ্চলের কিছু পাম্পে দেখা গেছে, কেবল সিএনজি বা ডিজেল বিক্রি হচ্ছে। প্রবেশপথে ‘তেল নাই’ লেখা স্ট্যান্ড রাখা হয়েছে। সরবরাহ না এলে বিক্রি বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নিচের টেবিলে প্রধান এলাকার ফিলিং স্টেশনের বর্তমান অবস্থার সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো—

এলাকাস্টেশনের অবস্থালাইনের দৈর্ঘ্যবিশেষ মন্তব্য
মিরপুরবিক্রি বন্ধ৩০০ মিটারনতুন সরবরাহের অপেক্ষা
কল্যাণপুরকেবল সিএনজি বিক্রিস্বল্পতেল নেই
বিজয়সরণিডিজেল ও অকটেন বিক্রি১.২৫ কিমিদীর্ঘ সারি, অপেক্ষা >১ ঘণ্টা
শেওড়াপাড়াকেবল ডিজেল বিক্রিমাঝারিপেট্রল ও অকটেন নেই
কালশীসীমিত বিক্রি১ কিমিসরবরাহ অনিশ্চিত

পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, জ্বালানি সরবরাহ পুনরায় স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত রাজধানীতে এই ধরনের দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি চলবে। চালকরা ধৈর্য ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে তেলের জন্য অপেক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছেন।

যেমন দেখা যাচ্ছে, সংকটের মূল কারণ হচ্ছে হঠাৎ চাহিদা বৃদ্ধি এবং সময়মতো সরবরাহ না আসা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ডিপো থেকে তেলের গাড়ি পৌঁছলেই বিক্রি পুনরায় শুরু হবে। তবে তার সঠিক সময় এখনও নির্ধারিত নয়।

এই পরিস্থিতিতে রাজধানীর চালকরা বিকল্প উপায় না থাকায় দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে তেলের জন্য অপেক্ষা করছেন, যা বিশেষ করে রোজার দিনে তাঁদের জন্য আরও কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে।