রাজধানীর এক বাসা থেকে মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার

রাজধানীর এক বাসা থেকে মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার। বুধবার (১৪ জুন) ভোরে মেরুল পূর্ব বাড্ডা এলাকার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের বাড়ি নং- ৭/১ রোড নং-১ পশ্চিম মেরুল বাড্ডা, জমসেদ টাওয়ার অষ্টম তলা থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। মৃতরা হলেন- মা বৃষ্টি আক্তার (৩৩) ও মেয়ে সানজা মারওয়া (১০)। এ ঘটনায় বৃষ্টি আক্তারের স্বামী সেলিমকে (৪০) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে বাড্ডা থানা পুলিশ।

বুধবার (১৪ জুন) সকালে বাড্ডা থানার ডিউটি অফিসার এসআই সাহাবুদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, ভোরে অচেতন অবস্থায় মা-মেয়েকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তাদের মৃত ঘোষণা করেন। তাদের শ্বাসরোধে হত্যা করা হতে পারে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা।

রাজধানীর এক বাসা থেকে মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার

 

বাড্ডা থানার এসআই ছাদেক মিয়া জানান, মঙ্গলবার (১৩ জুন) দিবাগত রাত ৩টার দিকে (বুধবার) ফরাজী হাসপাতাল থেকে মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে বাড্ডা থানা পুলিশ। ফরাজী হাসপাতালে গিয়ে মা ও মেয়েকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। বাসা থেকে তার স্বামী ও স্বজনরা তাদের ওই হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল। তখন সন্দেহ হলে সেখান থেকেই তার স্বামীকে আটক করা হয়। তাদের ফাহারিন নামে সাত-আট মাসের আরো একটি সন্তান রয়েছে। সেলিম বর্তমানে বেকার, ফ্ল্যাটের ভাড়া তুলে সংসার চালায়। তবে কী কারণে এই ঘটনা ঘটেছে তার বিস্তারিত জানা যায়নি। মরদেহ দুটি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে।

 

রাজধানীর এক বাসা থেকে মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার

 

তবে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে মা-মেয়ে বিষপান করে আত্মহত্যা করেছে বলে দাবি করেন সেলিম। তবে চিকিৎসক জানিয়েছেন, বিষপানের কোন সিমটম (আলামত) তাদের মধ্যে ছিল না। এজন্য প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সেলিম তাদের দুজনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন।

নিহত বৃষ্টির মামা সোহেল সিকদার জানান, সেলিম অন্য মেয়েদের সাথে পরকীয়া করতো। বিভিন্ন সময় বৃষ্টিকে এ নিয়ে নির্যাতন করতো। গত তিনদিন আগেও সেলিম বাহিরে ছিল। সে বিভিন্ন সময় মেয়ে নিয়ে কক্সবাজার সহ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যায়।

সোহেল সিকদার আরো জানান, তাদের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের টুঙ্গিবাড়ী উপজেলার চাষিরা গ্রামে। বর্তমানে পশ্চিম মেরুল বাড্ডা জামশেদ টাওয়ারের ৮ম তলায় থাকতেন তারা। এটি বৃষ্টির স্বামী সেলিমের নিজের বাড়ি। তিনি অভিযোগ করেন, রাত ২টার দিকে সেলিম বৃষ্টির গ্রামের বাড়িতে ফোন করে খবর দেয় যে বৃষ্টি ও তার মেয়ের অবস্থা ভালো না। খবর পেয়ে সোহেল ওই বাসায় গিয়ে বৃষ্টিকে এক রুমে এবং পাশের রুমে সানজাকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। এ সময় বাসায় ছিলেন সেলিম। ৯ মাসের ছোট ছেলে সারিনকে তখন প্রতিবেশী এক ভাড়াটিয়ার কোলে দেখতে পান।

Leave a Comment