গণঅভ্যুত্থানের মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আরও দুই আসামির রায়ের তারিখ ১৩ নভেম্বর ঘোষণা করা হবে। এই রায়কে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকায় ‘লকডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ।
এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সারাদেশে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে। সম্ভাব্য নাশকতা প্রতিরোধে শুরু হয়েছে ব্যাপক সাঁড়াশি অভিযান, বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম।
বুধবার সকাল থেকে রাজধানী ঢাকার এয়ারপোর্ট, আব্দুল্লাহপুর, ধানমণ্ডি ৩২, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, কাকরাইল এবং হাইকোর্টসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকার বিভিন্ন প্রবেশপথ এবং মোড়ে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে, যেখানে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনে তল্লাশি চলছে। কাগজপত্রও যাচাই করা হচ্ছে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতের অভিযানে আওয়ামী লীগের ৪৪ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া, ডিএমপির বিভিন্ন অপরাধ বিভাগ পৃথক অভিযান চালিয়ে আরও কয়েকজনকে আটক করেছে।
মঙ্গলবার রাতেই পুলিশ বঙ্গবন্ধু অ্যাভেনিউ, ফকিরাপুল, কাকরাইল, এলিফ্যান্ট রোডসহ বিভিন্ন এলাকার আবাসিক হোটেলগুলোতে অভিযান চালায়। সেখানে অতিথিদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও পেশা যাচাই করা হয়, এবং ঢাকায় আসার উদ্দেশ্যও জিজ্ঞাসা করা হয়। হোটেলে থাকা মোবাইল ফোনও তল্লাশি করা হয়, যাতে কোনো আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্য পাওয়া যায় কিনা।
রমনা বিভাগের ডিসি মাসুদ আলম জানিয়েছেন, “আমরা সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে হোটেল ও মেসে অভিযান চালাচ্ছি। গত রাতে কলাবাগানের একটি মেস থেকে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যারা নাশকতার পরিকল্পনায় ঢাকায় এসেছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।”
পুলিশ জানায়, সন্দেহভাজনদের আটক করার পর তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্য যাচাই করা হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আগের মামলা পাওয়া গেছে।
বিজিবির এক কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, “থোকভাবে নাশকতা রোধে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। কেউ কোনো নাশকতার চেষ্টা করলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে।”
