রাঙামাটির তবলছড়ি এলাকায় কাপ্তাই হ্রদের ওপর নির্মিত ঝুলন্ত সেতু বাংলাদেশের অন্যতম পরিচিত পর্যটন আকর্ষণ। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে নতুন পর্যটন স্পট ও রিসোর্টের উদ্বোধনের ফলে সেতুর জনপ্রিয়তা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। পর্যটকদের জন্য সেতুর আশেপাশে বিশেষ বিনোদনের ব্যবস্থা না থাকার কারণে দর্শনার্থীদের আগমন সীমিত হচ্ছে।
দুই পর্যটক জানিয়েছেন, তারা রাঙামাটিতে তিনদিন অবস্থান করলেও ঝুলন্ত সেতু দেখেননি। তাদের মতে, “আগের মতো সেতু আকর্ষণীয় মনে হয়নি। শুধু দেখার জন্য এখানে আসা পর্যাপ্ত নয়, সময় কাটানোর জন্য কিছু কার্যকর বিনোদনের ব্যবস্থা থাকা দরকার।” শহরের অন্যান্য নান্দনিক পর্যটন কেন্দ্রের সঙ্গে তুলনা করলে ঝুলন্ত সেতুর আবেদন কমে গেছে।
ঝুলন্ত সেতুটি ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন (বিটিসি) নির্মাণ করে। এটি দুটি পাহাড়ের মধ্যে অবস্থিত দুটি পিলারের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। শীতকালে দৈনিক এক থেকে দেড় হাজার পর্যটক এই সেতু দেখেন। তবে বর্ষার সময়ে কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি পেলে সেতু পানির নিচে চলে যায়, যা পর্যটকদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।
পর্যটন করপোরেশন সেতুর নান্দনিক ও দৃষ্টিনন্দন সংস্কারের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। নতুন ঝুলন্ত সেতু নির্মাণের পাশাপাশি সন্ধ্যা পর্যন্ত পর্যটকরা সেতুর আশেপাশে অবস্থান করতে পারবে এমন ব্যবস্থা করার প্রস্তাব ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পিত সংস্কারের মাধ্যমে শুধু পর্যটকদের জন্য আকর্ষণ বৃদ্ধি হবে না, স্থানীয়দের জন্যও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
পর্যটন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ঝুলন্ত সেতুর পুনর্নির্মাণ এবং পরিবেশ উন্নয়নের মাধ্যমে রাঙামাটির পর্যটন খাতকে আরও সম্প্রসারিত করা সম্ভব। বিশেষ করে সেতুর আশেপাশে রেস্টুরেন্ট, খেলার মাঠ, জাদুঘর বা হ্রদ ভ্রমণের নৌকা সার্ভিস চালুর মাধ্যমে পর্যটকদের আগমন বাড়ানো যেতে পারে।
সেতুর বর্তমান অবস্থা এবং সংস্কার পরিকল্পনা সংক্ষেপে নিচের টেবিলে দেওয়া হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নাম | কাপ্তাই হ্রদের ঝুলন্ত সেতু |
| নির্মাণকারী | বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন |
| নির্মাণ সাল | ১৯৮৬ |
| অবকাঠামো | দুটি পাহাড়ের মধ্যে দুটি পিলার অবলম্বনে নির্মিত |
| দৈনিক দর্শনার্থীর সংখ্যা (শীতকাল) | ১,০০০–১,৫০০ |
| সমস্যা | পর্যটকদের জন্য বিনোদনের সীমিত সুযোগ, বর্ষার সময়ে পানি বৃদ্ধি |
| সংস্কার পরিকল্পনা | নান্দনিক ও দৃষ্টিনন্দন সংস্কার, নতুন ঝুলন্ত সেতু, সন্ধ্যা পর্যন্ত অবস্থান সুবিধা |
| প্রত্যাশিত ফল | পর্যটন বৃদ্ধি, স্থানীয় কর্মসংস্থান |
পর্যটন করপোরেশন আশা করছে, সংস্কার শেষে ঝুলন্ত সেতু আবারও রাঙামাটির অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃতি পাবে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
