রাকিবুলের স্বল্প প্যারোলে জানাজা অংশগ্রহণ

ঝালকাঠি জেলার নলছিটিতে সম্প্রতি এক নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা স্বল্প সময়ের প্যারোলে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে তাঁর বাবার জানাজায় অংশগ্রহণ করেছেন। ঘটনাটি স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে বিশেষ মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে, যেখানে ব্যক্তিগত শোক ও রাজনৈতিক পরিচয়ের সংমিশ্রণ দেখা গেছে।

ঘটনার মূল চরিত্র রাকিবুল ইসলাম জোমাদ্দর (২৫), নলছিটি উপজেলার সুবিদপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। রাকিবুল প্রায় এক মাস ধরে একটি রাজনৈতিক মামলায় কারাবন্দী ছিলেন। পরিবার প্রশাসনের কাছে স্বল্প সময়ের প্যারোলের জন্য আবেদন করলে, প্রয়োজনীয় অনুমোদনের ভিত্তিতে পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কামদেবপুর গ্রামে রাকিবুল ইসলামের বাবা মোশাররফ জোমাদ্দরের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার সময় রাকিবুল পায়ে ডান্ডাবেড়ি পরিহিত ছিলেন, তবে হাতে হ্যান্ডকাফ ছিল না। দাফন কার্যক্রম শেষে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী তিনি পুনরায় কারাগারে হস্তান্তর করা হয়।

নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আরিফুল আলম বিষয়টি নিয়ে বলেন, “পরিবারের আবেদন ও প্রশাসনিক অনুমোদনের পর রাকিবুলকে স্বল্প সময়ের জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। পুরো সময় তিনি পুলিশি পাহারায় ছিলেন। ডান্ডাবেড়ি খুলে দেওয়ার অনুমোদন নেই, কারণ ১২ ঘণ্টার বেশি প্যারোলে রাখার নিয়ম রয়েছে। তিনি জানাজার পর সেই অবস্থাতেই কারাগারে ফেরানো হয়েছে।”

এদিকে, নলছিটি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি অনীক রহমান সরদার বলেন, “একজন সন্তানের জন্য পিতৃবিয়োগ অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এমন পরিস্থিতিতে প্যারোলে এসে জানাজায় অংশ নেওয়াটা নিঃসন্দেহে আবেগঘন মুহূর্ত। আমরা রাকিবুলের নিঃশর্ত মুক্তি কামনা করি।”

নিচের টেবিলে রাকিবুল ইসলামের জানাজার সংক্ষিপ্ত তথ্য উপস্থাপন করা হলোঃ

বিষয়তথ্য
নামরাকিবুল ইসলাম জোমাদ্দর
বয়স২৫ বছর
পদসুবিদপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক
গ্রেপ্তারের কারণরাজনৈতিক মামলা
কারাবন্দী সময়প্রায় এক মাস
জানাজার স্থানকামদেবপুর গ্রাম, সুবিদপুর ইউনিয়ন
প্যারোলের ধরনস্বল্প সময়ের প্যারোল (১২ ঘণ্টার সীমা)
নিরাপত্তাপুলিশি পাহারা
ডান্ডাবেড়িজানাজার সময় পরানো ছিল
হ্যান্ডকাফছিল না
কারাগারে ফেরার সময়জানাজা শেষে নির্ধারিত সময়ে পুনরায় হস্তান্তর

স্থানীয়রা এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় মিশ্র অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। একজন পিতার মৃত্যুর শোক এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের উপস্থিতি বিষয়টিকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে তুলেছে। পুলিশের তত্ত্বাবধানে স্বল্প সময়ের প্যারোল ও ডান্ডাবেড়ি ব্যবস্থাপনা দেখিয়েছে যে, আইনি সীমাবদ্ধতা বজায় রেখে মানবিক দিকটি বিবেচনা করা হয়েছে।

মোটকথা, রাকিবুল ইসলামের জানাজায় অংশগ্রহণ ছিল ব্যক্তিগত শোক ও রাজনৈতিক পরিচয়ের মিলিত ছবি, যা স্থানীয় সমাজে ব্যাপক মনোযোগ সৃষ্টি করেছে।