রমজান মাসে স্কুল বন্ধের নির্দেশ হাইকোর্টের

হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী, আসন্ন রমজান মাসে দেশের সরকারি ও বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি ফাহমিদা এবং বিচারপতি মো. আসিফ হাসান-এর হাইকোর্ট বেঞ্চ এই নির্দেশ দেন।

আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, রমজান মাসে শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় এবং শারীরিক স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখতে, যাতে তারা পূর্ণ মনোযোগে রোজা পালন করতে পারে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রাখা প্রয়োজন। এছাড়া, শিক্ষকদেরও রোজা চলাকালীন সময়ে যথাযথ বিশ্রাম ও সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সরকারি শিক্ষা বিভাগের একটি সূত্র জানায়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরকারি ও বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় রমজান মাসে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। এই উদ্যোগ মূলত শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও ধর্মীয় প্রয়োজনকে কেন্দ্র করে গৃহীত।

নিম্নে দেশের স্কুল বন্ধ রাখার সময়সূচি সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

শ্রেণিবন্ধ থাকার সময়কালপ্রযোজ্য স্কুলের ধরন
নিম্ন মাধ্যমিক (৬–৮)পুরো রমজান মাসসরকারি ও বেসরকারি
মাধ্যমিক (৯–১০)পুরো রমজান মাসসরকারি ও বেসরকারি
উচ্চ মাধ্যমিক (১১–১২)বিদ্যালয়ের নিজস্ব নীতি অনুযায়ীসরকারি ও বেসরকারি

সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো রমজান মাসে বন্ধ থাকলেও অনেকে অনলাইন ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট বা দূরশিক্ষণ কার্যক্রম চালিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠক্রম অব্যাহত রাখার সুযোগ রাখবে। বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোও শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের স্বাচ্ছন্দ্য বিবেচনা করে বন্ধ রাখার সময়সূচি নির্ধারণ করবে।

শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন, রমজান মাসে স্কুল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে এটি শিক্ষকদেরও রোজা পালন এবং ধর্মীয় কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেবে।

শিক্ষামন্ত্রী অফিস জানায়, এই নির্দেশনা দেশের সকল শিক্ষা বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়কে জানানো হবে। প্রয়োজনে স্থানীয় বিদ্যালয়সমূহ তাদের সময়সূচিতে সামঞ্জস্য আনতে পারবে, যাতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় কোনও সমস্যা না হয়।

সার্বিকভাবে, হাইকোর্টের এই নির্দেশ শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় চেতনা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বজায় রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। এটি রমজান মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমের সমন্বয় এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।