আগামী রমজানকে সামনে রেখে মুসলমান সম্প্রদায়ের মাংসের চাহিদা পূরণ এবং বাজারে মূল্য স্থিতিশীল রাখতে ইন্দোনেশিয়া অস্ট্রেলিয়া থেকে জীবিত গবাদি পশু আমদানি করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে দেশের আঞ্চলিক সরকারের মালিকানাধীন খাদ্য প্রতিষ্ঠান পেরুমদা ধর্মা জয়া, যা গত কয়েক বছরে দেশের গবাদি পশু সরবরাহ ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।
প্রতিষ্ঠানের প্রধান পরিচালক রাদিত্য এন্দ্রা বুদিমান জানিয়েছেন, এ বছর মোট ৭,৫০০টি গবাদি পশু আমদানি করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে এই পরিকল্পনা এখনও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি বলেন,
“আমরা আশা করি জানুয়ারির শেষ নাগাদ অনুমোদন পাওয়া যাবে। অনুমোদন মিললেই কেনাকাটার কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে। প্রতিবার গবাদি পশু আমদানির জন্য আলাদা অনুমতিপত্র গ্রহণ করতে হয়; আগের বছরের অনুমতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হয় না।”
ধর্মা জয়া জানায়, প্রাথমিক ধাপে ৭৫০টি গবাদি পশু আমদানির মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হবে। বাকি পশুগুলো ধাপে ধাপে আনা হবে, যা বাজারের চাহিদা ও স্থানীয় প্রয়োজনের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির বান্তেন প্রদেশের সেরাংয়ে অবস্থিত স্থাপনার গবাদি পশু রাখার ক্ষমতা ১,৩০০টি পশু। জাকার্তা, বোগর, বান্তেন ও পশ্চিম জাভা থেকে আসা অর্ডারের ভিত্তিতে আমদানি করা পশুর চাহিদা স্থানীয় পশুর তুলনায় অনেক বেশি। এর মূল কারণ হলো এই পশুগুলো উন্নত জিনগত বৈশিষ্ট্য এবং উচ্চমানের।
নিচের টেবিলে গবাদি পশু আমদানির বিস্তারিত পরিকল্পনা দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| প্রতিষ্ঠান | পেরুমদা ধর্মা জয়া |
| মোট আমদানি | ৭,৫০০ গবাদি পশু |
| প্রাথমিক ধাপ | ৭৫০ পশু |
| গবাদি পশু রাখার সক্ষমতা | ১,৩০০ পশু |
| মূল উৎস | অস্ট্রেলিয়া |
| সম্ভাব্য সরবরাহ এলাকা | জাকার্তা, বোগর, বান্তেন, পশ্চিম জাভা |
| অনুমোদন প্রক্রিয়া | বাণিজ্য মন্ত্রণালয় অনুমোদনের অপেক্ষায় |
| কেনাকাটার সম্ভাব্য সময় | ফেব্রুয়ারি থেকে |
রাদিত্য এন্দ্রা বুদিমান আরও জানান, “আমরা বাজারের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ সমন্বয় করি। ব্যবসায়ীরা সরাসরি আমাদের কাছে অর্ডার দেন, তাই আমরা প্রয়োজন অনুযায়ী ধাপে ধাপে গবাদি পশু আনতে পারি। অনুমোদন মিললেই কেনাকাটা ও পরিবহণের কার্যক্রম শুরু হবে।”
এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়া রমজানকে কেন্দ্র করে খাদ্য সরবরাহে স্বয়ংসম্পূর্ণতা বজায় রাখতে এবং বাজারে স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে চায়। বিশেষ করে মুসলমানদের উৎসবকালীন চাহিদা মেটানোর জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
