রমজানে খেজুরের বাজারে অস্বস্তি

রমজান সামনে রেখে দেশে খেজুর আমদানি বাড়লেও খুচরা বাজারে জনপ্রিয় কয়েকটি জাতের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)–এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ১ নভেম্বর থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে মোট ৪৯,৮০৭ টন খেজুর আমদানি হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ৪৪,৭১৬ টন। অর্থাৎ আমদানি বেড়েছে ৫,০৯১ টন বা ১১.৪ শতাংশ।

আমদানির চিত্র

সময়কালআমদানি (টন)বৃদ্ধি (টন)বৃদ্ধি (%)
গত বছর (১ নভে–১৭ ফেব্রু)৪৪,৭১৬
চলতি বছর (১ নভে–১৭ ফেব্রু)৪৯,৮০৭৫,০৯১১১.৪%

সরকার রমজানকে কেন্দ্র করে বাজার স্থিতিশীল রাখতে গত ২৪ ডিসেম্বর আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামিয়েছে। একই সঙ্গে অগ্রিম আয়কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে, যা ৩১ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই কর–সুবিধার প্রভাব এখনো খুচরা পর্যায়ে পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি।

রমজানে ইফতারের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ খেজুর। বিশেষ করে নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্তের কাছে তুলনামূলক সাশ্রয়ী জাহিদি জাতের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। দেশে আমদানিকৃত খেজুরের বড় অংশই এই জাতের। কিন্তু চলতি বছর রোজা শুরুর আগেই জাহিদি খেজুরের খুচরা দাম কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। কিছু বাজারে দাম বেড়েছে আরও বেশি।

বিভিন্ন জাতের দাম বৃদ্ধি

জাতচলতি দাম (টাকা/কেজি)গত বছরের দাম (টাকা/কেজি)বৃদ্ধি
জাহিদি (খুচরা)৩৫০২০০+১৫০
নাকাল৩৬০২৮০+৮০
মাশরুখ৪৫০৪০০+৫০
আম্বর৮০০৬০০+২০০
দাব্বাস৫০০৪০০+১০০

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে থাইল্যান্ড থেকে আসা প্রায় ৪ হাজার টন খেজুরবাহী একটি জাহাজ ডুবে যাওয়ায় সরবরাহে সাময়িক ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ওই চালানের প্রায় ৯০ শতাংশ ছিল জাহিদি জাতের। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের ইজারা–সংক্রান্ত কর্মবিরতির কারণে কয়েক দিন খালাস কার্যক্রম ব্যাহত হয়। ফলে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে এবং তার প্রভাব পড়ে পাইকারি ও খুচরা বাজারে।

আমদানিকারকদের দাবি, নতুন চালান দ্রুত খালাস হচ্ছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। ১৫ থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারি—এই তিন দিনে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ৬,৯১৭ টন খেজুর খালাস হয়েছে, যা সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির ইঙ্গিত দেয়। তারা আশা করছেন, এক সপ্তাহের মধ্যে দাম কিছুটা কমতে পারে।

অন্যদিকে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) সারা দেশে ১৬০ টাকা কেজি দরে খেজুর বিক্রি শুরু করেছে। তবে একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ আধা কেজি কিনতে পারছেন। এতে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য কিছুটা স্বস্তি এলেও বাজারের সার্বিক মূল্যস্তর নিয়ন্ত্রণে এর প্রভাব সীমিত বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রমজানে খেজুরের চাহিদা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে যায়। এ সময় সরবরাহ ব্যবস্থায় সামান্য বিঘ্নও বড় মূল্যবৃদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পাইকারি পর্যায়ে অল্প বৃদ্ধি খুচরা বাজারে তুলনামূলক বেশি হয়ে প্রতিফলিত হয়। ফলে আমদানি বৃদ্ধি ও কর–ছাড়ের সুবিধা কার্যকরভাবে বাজারে পৌঁছাতে না পারলে ভোক্তাদের চাপ কমানো কঠিন হয়ে পড়ে।