ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে ময়মনসিংহ শহরের প্রান্ত পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভাজকগুলো বসন্তের ঋতুর মাঝামাঝি সময়ে রক্তিম পলাশের আগুনরাঙা রঙে মোড়া। অযত্ন ও স্বল্প পরিচর্যার মধ্যেও এই প্রাকৃতিক দৃশ্য যাত্রী ও পথচারীদের মনোহর আনন্দ দেয়। চার লেনের মহাসড়কটি শুধুমাত্র যান চলাচলের জন্য নয়, বরং এই বিভাজকের ফুলবাগান মানুষের চোখ ও মনকে সতেজ রাখে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) ময়মনসিংহের নির্বাহী প্রকৌশলী খায়রুল বাশার মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন জানান, “ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক সম্প্রসারণের সময় বিভাজকে বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের গাছ লাগানো হয়। পলাশ ছাড়াও সোনালী, কৃষ্ণচূড়া, শিমুল ও অন্যান্য ঋতুভেদী ফুল এখানে প্রতিটি ঋতুতে সৌন্দর্য যোগ করে। যেসব জায়গায় গাছ নষ্ট হয়েছে, সেখানে নতুন চারা রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
মহাসড়কে ফুলের বিস্তার (ভালুকা–ময়মনসিংহ অংশ)
| এলাকা | মূল ফুলের প্রজাতি | দূরত্ব (কিমি) | উল্লেখযোগ্য দৃশ্য |
|---|---|---|---|
| স্কয়ার মাস্টারবাড়ি | পলাশ, কৃষ্ণচূড়া | 5 | ডিভাইডারের সারি জুড়ে আগুনরঙা পলাশ |
| সিডস্টোর | পলাশ, সোনালী | 8 | রঙিন সমারোহে পথচারী ও যাত্রীরা মুগ্ধ |
| ভালুকা | পলাশ, শিমুল | 12 | গাড়ি চলাচলের পথে সুন্দর দৃশ্য উপভোগ |
| ভরাডোবাসহ ত্রিশাল | পলাশ, সোনালী | 25 | পুরো বিভাজক জুড়ে প্রাকৃতিক রঙের বিস্তার |
ময়মনসিংহ পলিটেকনিক কলেজের শিক্ষার্থী ভালুকার বৃষ্টি বলেন, “কলেজে যাতায়াতের সময় গাড়ি থেকে ডিভাইডারের পলাশ দেখতে খুব সুন্দর লাগে। মন খারাপ থাকলেও ফুলের রঙে মন ভালো হয়ে যায়।” ভালুকা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ মাইন উদ্দিন যোগ করেন, “গন্তব্যে বা কর্মস্থলে যাত্রাপথে এমন নয়নাভিরাম দৃশ্য চোখে পড়লে মন সতেজ হয়ে ওঠে। পলাশের রঙ মানুষের জীবনকে আনন্দময় করে তোলে।”
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সদস্য সচিব কামরুল হাসান পাঠান কামাল জানান, “সঠিক পরিচর্যা ও নিয়মিত জলপান করলে আরও বেশি ফুল ও সৌন্দর্য উপভোগ করা যেত। আশা করি সওজ বিভাগ এই বিষয়ে আরও যত্নশীল হবে।”
পলাশ (বৈজ্ঞানিক নাম: বুটিয়া মনোস্পার্মা) মূলত ভারতীয় উপমহাদেশের ফুল। বাংলাদেশে বসন্তে ফুল ফোটে; ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম ও পুরুলিয়া, এছাড়াও বেঙ্গালুরুতেও দেখা মেলে। রঙে লাল, লালচে কমলা, হলুদ ও সাদা হয়। ঔষধি গুণও আছে—গাঁটের ব্যথা, চর্মরোগ, জ্বর, ডায়রিয়া ও ডায়াবেটিসে ব্যবহার হয়। পলাশের ছাল, পাতা ও বীজ নানা চিকিৎসায় কাজে লাগে। কবি-সাহিত্যিকদের লেখা ও শিল্পকর্মেও পলাশের উল্লেখ বহুবার এসেছে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতায় যেমন দেখা যায়:
‘হলুদ গাঁদার ফুল, রাঙা পলাশ ফুল/এনে দে এনে দে নইলে/বাঁধব না, বাঁধব না চুল…।’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান ও কবিতাতেও পলাশের রঙিন সৌন্দর্য বারবার ফুটে উঠেছে।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের এই পলাশের সমারোহ বসন্তের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মনকেও রঙিন করে তুলছে, পথচারী ও যাত্রীদের জন্য সৃষ্টি করছে এক নিত্যনতুন প্রাকৃতিক আনন্দের অভিজ্ঞতা।
