রক্তাক্ত মহাসড়ক: পাঁচ জেলায় মা-মেয়েসহ ঝরল ৯ প্রাণ

দেশের সড়ক-মহাসড়কগুলোতে মৃত্যুর মিছিল যেন থামছেই না। আজ শুক্রবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের পাঁচ জেলায় পৃথক পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। টাঙ্গাইল, কুষ্টিয়া, নরসিংদী, পটুয়াখালী ও কুড়িগ্রামের এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৮ জন। শীতকালীন ঘন কুয়াশা, বেপরোয়া গতি এবং সড়কের পাশে নিয়মবহির্ভূতভাবে যানবাহন থামিয়ে রাখাকেই এসব দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

নিচে আজকের সড়ক দুর্ঘটনার একটি সামগ্রিক পরিসংখ্যান সারণি আকারে তুলে ধরা হলো:

একনজরে জেলাভিত্তিক দুর্ঘটনার ক্ষয়ক্ষতি

জেলানিহতের সংখ্যাপ্রধান কারণ ও যানবাহনবিশেষ মন্তব্য
টাঙ্গাইল২ জনট্রাক ও প্রাইভেটকারের সংঘর্ষ।নিহতরা সম্পর্কে মা ও ১০ মাসের শিশু।
কুষ্টিয়া২ জনপিকআপ ও মোটরসাইকেল সংঘর্ষ।২০ বছর বয়সী দুই বন্ধুর মৃত্যু।
নরসিংদী২ জনবাস চাপা ও কাভার্ডভ্যান সংঘর্ষ।পৃথক দুর্ঘটনায় একজন নারী ও চালক নিহত।
পটুয়াখালী২ জনঅটোরিকশা ও টমটমের সংঘর্ষ।নিহতদের মধ্যে ৬ বছরের এক শিশু রয়েছে।
কুড়িগ্রাম১ জনবাস ও মোটরসাইকেল সংঘর্ষ।ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা হ্রাস।
মোট৯ জনআহত মোট: ৮ জন৫টি জেলায় পৃথক দুর্ঘটনা।

দুর্ঘটনার বিস্তারিত চিত্র

টাঙ্গাইল: ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই এলাকায় আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী একটি প্রাইভেটকার যাত্রী নামানোর জন্য রাস্তার পাশে থামলে পেছন থেকে একটি দ্রুতগামী ট্রাক সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই ফেনীর সোনাগাজীর জিসান কবিরের স্ত্রী সাদিয়া কবির (৩২) এবং তাঁর ১০ মাস বয়সী শিশুকন্যা তাজরি কবির প্রিয়ম নিহত হন। এ ঘটনায় আরও দুজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার ষোলদাগ এলাকায় পিকআপের ধাক্কায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। নিহত রশিদ (২০) ও সিয়াম (২০) উভয়েই মিরপুর উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সংঘটিত এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

নরসিংদী: নরসিংদীতে আজ পৃথক দুটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিকেলে সদর উপজেলার জেলখানা মোড়ে মহাসড়ক পার হওয়ার সময় বাস চাপায় এক অজ্ঞাতপরিচয় নারী নিহত হন। এর আগে সকালে বেলাবো উপজেলার খামারেরচরে পিকআপ ও কাভার্ডভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক রুবেল (৩০) প্রাণ হারান।

পটুয়াখালী ও কুড়িগ্রাম: পটুয়াখালীর দুমকিতে অটোরিকশা ও সিমেন্টবাহী টমটমের মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশু রবিউল ও ইব্রাহিম খান (৬০) নিহত হন। অন্যদিকে, কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ঘন কুয়াশার মধ্যে বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে ফারুক আহম্মেদ (৩০) নামের এক যুবক নিহত হন। এ ঘটনায় তাঁর বন্ধু জাহাঙ্গীর আলম অপুর অবস্থা আশঙ্কাজনক।

পুলিশের ভাষ্যমতে, শীতকালীন ঘন কুয়াশার কারণে মহাসড়কে দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ায় চালকরা নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন। পাশাপাশি মহাসড়কের পাশে অনিরাপদভাবে গাড়ি থামিয়ে রাখাও বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করছে। প্রতিটি ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।