রংপুরে মুখোমুখি ট্রাক সংঘর্ষে দুই চালক নিহত

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে দুটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন চালক প্রাণ হারিয়েছেন। দুর্ঘটনা ঘটে উপজেলার হাজীপুর এলাকার খারুভাজ ব্রিজ সংলগ্ন মহাসড়কে। সংঘর্ষের তীব্রতায় উভয় ট্রাকের সামনের অংশ সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় এবং ঘটনাস্থলেই দুই চালকের মৃত্যু হয়।

স্থানীয় পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যমতে, পাথরবোঝাই ট্রাকের হেলপার গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিকে প্রথমে তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ প্রেরণ করা হয়।

নিহত ও আহতদের বিস্তারিত তথ্য নিম্নরূপ:

নামবয়সপেশাজেলা/উপজেলাঅবস্থা
ইদ্রিস আলী৩৫ট্রাক চালকমহেশপুর, ঝিনাইদহনিহত
আরিফ৪৯ট্রাক চালকপটুয়াখালীনিহত
আরিফুল৩২হেলপারঅজানাগুরুতর আহত

তারাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, দুর্ঘটনাকবলিত দুটি ট্রাক মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সৈয়দপুরগামী সারবোঝাই ট্রাক এবং রংপুরগামী পাথরবোঝাই ট্রাকের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটা ছিল যে উভয় ট্রাকের সামনের অংশ সম্পূর্ণভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, এই মহাসড়কটি সকাল ও বিকেলের সময় অত্যন্ত ব্যস্ত থাকে এবং বহনক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে যানবাহন চলাচল করার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেক বেশি। পুলিশ স্থানীয় ট্রাক মালিক ও চালকদের প্রতি সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে ঈদ ও অন্যান্য উৎসবকালীন সময়ে সড়কে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা অপরিহার্য।

স্থানীয়রা বলছেন, এই দুর্ঘটনা আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে সড়ক নিরাপত্তা, যানবাহনের নিয়মিত তত্ত্বাবধানে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সক্রিয় নজরদারির গুরুত্ব। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এমন সংঘর্ষ প্রতিরোধে চিত্রায়িত স্থানে স্পিড ব্রেকার, সচেতনতা অভিযান এবং যানবাহনের লোড সীমা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই দুর্ঘটনা স্থানীয় জনজীবনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে এবং সতর্কবার্তা হিসেবে উদাহরণ স্থাপন করেছে যে, সড়কে সচেতনতা, আইন মানা এবং যানবাহনের নিয়মিত তত্ত্বাবধান না থাকলে প্রতিদিনের যাত্রা প্রাণঘাতী হতে পারে।